গাজায় ধ্বংসযঞ্জ ও পশ্চিম তীরের সহিংসতার প্রতিবাদ
ইসরায়েল বয়কটের পক্ষে ব্রিটেনের ট্রেড ইউনিয়নগুলো
- ৫৩ লাখের বেশি কর্মীর সংগঠনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, অস্ত্র চুক্তি বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞার দাবিতে প্রস্তাব পাস

ব্রাইটনের সম্মেলন কক্ষে বুধবার যখন ভোট হলো, তখন শুধু একটি প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছিল না–ব্রিটেনের শ্রম আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে এক নতুন অবস্থানেরও ঘোষণা হচ্ছিল। গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতিবাদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বয়কট ও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্যের শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রধান জাতীয় ফেডারেশান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাইটনে অনুষ্ঠিত টিইউসির বার্ষিক সম্মেলনে ৫৩ লাখের বেশি শ্রমিকের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠন প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনপন্থী বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছে।
প্রস্তাবে টিইউসিকে গাজায় “বিপর্যয়কর ধ্বংস” এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ও অস্ত্র চুক্তি বন্ধের প্রচার, ব্রিটিশ সরকারের কাছে বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার দাবি এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে ট্রেড ইউনিয়নভিত্তিক প্রচারণায় সমর্থনের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবটি উত্থাপনকারী আর্টিস্টস ইউনিয়ন ইংল্যান্ডের জিতা হলবোর্ন বলেছেন, “ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের জন্য জরুরি হলো BDS আন্দোলনের আহ্বানে সাড়া দেওয়া, সব ধরনের সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে আমাদের সম্মিলিত শক্তি ব্যবহার করা।”
ফিলিস্তিনপন্থী বিডিএস আন্দোলনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ওমর বারঘৌতি টিইউসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির এই বৃহৎ আন্দোলনের কারণেই ব্রিটিশ সরকার “সহযোগিতা বন্ধের দিকে ছোট কিছু পদক্ষেপ” নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এগুলো এখনও যথেষ্ট নয়।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ব্রিটিশ সরকারও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নতুন অবস্থান নিয়েছে। গত সপ্তাহে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সমালোচনা করলেও একই সঙ্গে বলেছেন, তিনি “বিডিএস আন্দোলনের পুরোপুরি বিরোধী” এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার পক্ষে।
টিইউসির সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের ডেপুটি পরিচালক পিটার লিয়ারি বলেছেন, এই ভোট একটি “টার্নিং পয়েন্ট”। তাঁর দাবি, ইউনিয়নগুলো সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাপ দিচ্ছে।
তবে ইসরায়েলবিষয়ক নীতিতে ব্রিটেনের ভেতরে মতভেদও রয়েছে। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, বিস্তৃত বয়কট কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ ছাড়া পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
টিইউসির এই অবস্থান এখন ব্রিটিশ শ্রম রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, দেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন যখন ইসরায়েলবিরোধী বয়কটের পক্ষে দাঁড়াল, তখন লন্ডনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির ওপর চাপ আরও বাড়ল।



