ব্রিটেনে মার্কিন ঘাঁটিতে ‘বোমা-ছকের’ নেপথ্যে বিদেশি শক্তি, দাবি রুবিওর
- পাঁচ ব্রিটিশ যুবকের জামিনে ক্ষোভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর, তবে দাবির পক্ষে প্রমাণ দেননি
- ইরান-যোগ অস্বীকার তেহরানের, সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে ব্রিটিশ পুলিশ

তিনটি সাদা ভ্যান, মুখঢাকা কয়েকজন যুবক আর কয়েক মিনিট দূরে এমন একটি বিমানঘাঁটি, যেখান থেকে ইরানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বোমারু বিমান। সেই রহস্যের উত্তর এখনও খুঁজছে ব্রিটিশ পুলিশ। তার মধ্যেই ওয়াশিংটন থেকে আরও বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার বক্তব্য, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে ঘিরে সন্দেহজনক ঘটনার পেছনে “স্পষ্টভাবেই কোনও বিদেশি শক্তির হাত” রয়েছে। তবে দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, ব্রিটেনে সপ্তাহান্তে যা ঘটেছে বা ঘটতে পারত, তা “অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি”। তার কথায়, ঘটনাটি “স্পষ্টভাবেই কোনও বিদেশি শক্তির হাত থাকার ইঙ্গিত দেয়।” তবে কোন দেশকে তিনি দায়ী করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
রুবিও একই সঙ্গে পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ায় অসন্তোষ জানান। তার দাবি, তাদের মুক্তির ঘটনায় অনেকেই “বিচলিত”। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই সুরে বলেছিলেন, তিনি হলে তাদের ছেড়ে দিতেন না। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা তাদের সম্পর্কে সব জানি। আমরা তাদের ছেড়ে দিতাম না।” ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “থাকতে পারে।” তবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার গভীর রাতে। স্থানীয় এক কৃষক আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের দিকে তিনটি সাদা ভ্যান এবং সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা ব্যক্তিদের দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে হুইলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই ব্রিটিশ নাগরিক, লন্ডনের বাসিন্দা এবং বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। প্রথমে বিস্ফোরক আইনে এবং পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
তিনটি ভ্যান দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করেন। প্রথম দিকে সেখানে বিস্ফোরক উপাদান থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। তবে দ্য গার্ডিয়ানের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত ভ্যানগুলোতে বিস্ফোরক পদার্থ পাওয়া যায়নি। সোমবার পাঁচজনকেই কঠোর শর্তে পুলিশি জামিন দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান লরেন্স টেলর অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, জামিন মানে তদন্ত শেষ নয়। তার ভাষায়, পাঁচজনই এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছেন এবং তাদের চলাফেরা ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগে “কঠোর শর্ত” রয়েছে। তদন্তকারীরা দেখছেন, তারা কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, এমনকি না জেনেও কাজ করছিলেন কি না।
ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলেও ব্রিটিশ পুলিশ এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। রাশিয়া বা অন্য কোনও গোষ্ঠীর সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া হয়নি। লন্ডনে ইরানি দূতাবাস অভিযোগগুলোকে “ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ জল্পনা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফেয়ারফোর্ডের গুরুত্ব এখানেই। ঘাঁটিটি মার্কিন ভারী বোমারু বিমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয় এবং চলতি বছর ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে ভূমিকা রেখেছে। জুলাইয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ডও সতর্ক করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত কোনও ঘাঁটিকেই তারা বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
তাই রুবিওর দাবি নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করলেও তদন্তের মূল প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত: ফেয়ারফোর্ডের দিকে তিনটি ভ্যান কেন যাচ্ছিল, এবং এর পেছনে সত্যিই কোনও বিদেশি রাষ্ট্র ছিল কি না।



