বাড়িভাড়া নিয়ে বিক্ষোভ, আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ছবি: রয়টার্স
স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৯ নভেম্বর ভোট হবে। ২০২৭ সালে যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তা এক বছর আগেই অনুষ্ঠিত হবে। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা ও বাড়িভাড়া কমানো নিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মধ্যেই এ ঘোষণা আসল।
সোমবার মাদ্রিদের মোনক্লোয়া প্রাসাদে এক বিবৃতিতে সানচেজ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এর আগে সপ্তাহান্তে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি।
সানচেজ বলেছেন, ‘স্পেনের ভবিষ্যৎ আপনারা কেমন চান, তা ঠিক করার সময় এসেছে।’
গত শুক্রবার পার্লামেন্টে তার সংখ্যালঘু সরকার আবাসন সংকট মোকাবিলায় নেওয়া কিছু পদক্ষেপ পাস করাতে ব্যর্থ হয়। বিরোধী দলগুলো সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এর মধ্যে ভাড়ার চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো এবং ঝুঁকিতে থাকা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব ছিল।
সানচেজ বলেছেন, এবারের নির্বাচন স্পেন কোন পথে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেবে। তার ভাষায়, ভোটারদের ঠিক করতে হবে দেশটি ‘উগ্র ডানপন্থার ঢেউয়ের’ দিকে যাবে, নাকি ‘উন্মুক্ততা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার’ পথে থাকবে।
তিনি বলেছেন, স্পেনের মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর তার আস্থা রয়েছে। আরও কাজ করতে হলে জনগণের কাছ থেকে ‘আরও বিস্তৃত সমর্থন’ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তার লক্ষ্য পার্লামেন্টে আরও বড় প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা।
গত কয়েক মাস ধরে সানচেজ বারবার বলে আসছিলেন, তার সরকার চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবে। তবে আবাসন ব্যয় নিয়ে দেশ জুড়ে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তিনি।
গত শনিবার মাদ্রিদসহ স্পেনের বিভিন্ন শহরে কয়েক হাজার মানুষ কম ভাড়ায় আবাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
গত মাসে মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে দীর্ঘদিনের বাসা থেকে উচ্ছেদের পর আবাসন নিয়ে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এরপর শত শত বিক্ষোভকারী মধ্য মাদ্রিদে তাঁবু গেড়ে অবস্থান নিয়েছেন।
পার্লামেন্টে শুক্রবারের পরাজয় সানচেজের সংখ্যালঘু জোট সরকারের আইন পাসের ক্ষেত্রে থাকা সমস্যাও সামনে এনেছে। ২০২৩ সালের বাজেটের পর স্পেনে নতুন জাতীয় ব্যয় পরিকল্পনাও অনুমোদিত হয়নি।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোয় সানচেজের স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির (পিএসওই) চেয়ে বিরোধী কনজারভেটিভ পপুলার পার্টি (পিপি) এগিয়ে রয়েছে।
সূত্র : ডয়েচে ভেলে




