বাড়িভাড়া নিয়ে অসন্তোষ, স্পেনে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

৩ অক্টোবর ২০২৬, স্পেনের মাদ্রিদে উচ্ছেদ বন্ধ ও আবাসন সংকট নিরসনে রাজনৈতিক পদক্ষেপের দাবিতে বিক্ষোভে ‘সাধারণ ধর্মঘটের পথে’ লেখা ব্যানার বহন করছেন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: রয়টার্স
ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা বাড়ানো এবং বাড়িভাড়া কমানোর দাবিতে স্পেন জুড়ে বড় আকারের বিক্ষোভ হয়েছে। আবাসন সংকটের প্রতিবাদে স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির প্রায় ৫০টি শহরে মিছিল হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বসতবাড়ি উচ্ছেদ বন্ধ এবং বিনিয়োগ তহবিলের হাতে আবাসিক সম্পত্তি বিক্রি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, রাজধানী মাদ্রিদে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ভাড়াটিয়া সংগঠন দাবি করেছে, সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।
তবে সরকার বলছে, এতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার।
মাদ্রিদের পুয়ের্তা দেল সল চত্বরে কয়েক দিন ধরে অবস্থানও করছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের মুখে ‘ভাড়াবাণিজ্যের জন্য শান্তি থাকছে না’ এবং ‘ভবিষ্যতের জন্য পড়াশোনা করি, ছোট একটি ঘরের জন্য নয়’—এমন স্লোগান শোনা গেছে।
বিক্ষোভ থেকে ডানপন্থী একটি গোষ্ঠীর তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কয়েকজন নাৎসি আদর্শের এবং তারা বিক্ষোভকারীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ভ্যালেন্সিয়াতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। শহরের পালাউ দে লেস আর্টসে একটি আবাসন বিনিয়োগ সম্মেলন চলছিল। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। ঘটনায় পাঁচজনকে আটক এবং ৯ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিক্ষোভের সূত্রপাত ৮৭ বছর বয়সী মারিকাবমেন আবাসকালকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায়। গত সেপ্টেম্বরে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তিনি তা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। তাকে উচ্ছেদের পর দেশ জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার ফ্ল্যাটের মালিক প্রতিষ্ঠান উরবাগেসতিওনের সঙ্গে আলোচনার পর কম ভাড়ায় তাকে আবার বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা হয়। তবে বিক্ষোভ থামেনি।
আবাসন সংকট সামাল দিতে শুক্রবার স্পেনের পার্লামেন্টে দুটি জরুরি অধ্যাদেশ পাসের চেষ্টা করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। এর একটি প্রস্তাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থগিত, ২০২৮ সালের আগে শেষ হওয়ার কথা থাকা ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো, পর্যটকদের জন্য ব্যবহৃত ফ্ল্যাটে কর বাড়ানো এবং তথাকথিত ‘শকুন তহবিলের’ আবাসিক সম্পত্তি কেনায় বিধিনিষেধের কথা ছিল।
স্পেনে ভলচার ফান্ড বা শকুনি তহবিল বলতে এমন কিছু বিদেশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থাকে (যেমন- ব্ল্যাকস্টোন বা সারবেরাস) বোঝায়, যারা কোনো দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে পানির দামে সংকটাপন্ন সম্পদ কিনে চড়া লাভে বিক্রি বা ভাড়ায় পরিচালনা করে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে ভাড়ার চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিধান ছিল। তবে দুটি প্রস্তাবই পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। প্রথমটি ১৭৮-১৭২ ভোটে এবং দ্বিতীয়টি ১৮৪-১৬৬ ভোটে বাতিল হয়।
সানচেজের সংখ্যালঘু জোট সরকারের পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। বিরোধী রক্ষণশীল পিপলস পার্টি ও কট্টর ডানপন্থী ভক্স শুরু থেকেই প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেছিল। পরে কাতালান স্বাধীনতাপন্থী দল জুন্তসও বিরোধিতা করায় প্রস্তাব দুটি পাসের সম্ভাবনা আরও কমে যায়।
পার্লামেন্টে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সানচেজ আগাম নির্বাচন দিতে পারেন— এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ভাড়াটিয়া সংগঠন এরই মধ্যে আবাসন সংকট নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি





