৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান
স্পেনের নাগরিকত্ব পেতে যাচ্ছেন পশ্চিম সাহারার জনগণ

স্প্যানিশ শাসনাধীন পশ্চিম সাহারায় জন্ম নেওয়া মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট।
ইতিহাসের পুরনো এক অধ্যায়ের দায় মেটানোর পথে স্পেন। স্প্যানিশ শাসনাধীন পশ্চিম সাহারায় জন্ম নেওয়া মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে বহু পশ্চিম সাহারার বাসিন্দা এবং তাদের বংশধরের সামনে খুলতে পারে স্প্যানিশ নাগরিকত্বের নতুন পথ।
বৃহস্পতিবার ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের নিম্নকক্ষ পার্লামেন্ট এমন একটি আইনের পক্ষে ভোট দিয়েছে, যার মাধ্যমে ১৯৭৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের আগে পশ্চিম সাহারায় জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা বিশেষ প্রক্রিয়ায় স্প্যানিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে এই সুযোগ থাকবে।
প্রস্তাবটি পাসের পেছনে ছিল স্পেনের বামপন্থী জোট শরিক সুমার দলের উদ্যোগ। ভোটাভুটিতে ১৬৮ জন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, ৩১ জন বিরোধিতা করেন এবং ১৪৫ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। কট্টর ডানপন্থী ভক্স দল এর বিরোধিতা করে।
সুমারের পশ্চিম সাহারা বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতা তেশ সিদি এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক অধিকার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এটি পশ্চিম সাহারার মানুষের সঙ্গে স্পেনের অতীত সম্পর্কের একটি স্বীকৃতি।
পশ্চিম সাহারা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আফ্রিকার অন্যতম বিতর্কিত ভূখণ্ড। একসময় স্পেনের উপনিবেশ থাকা এই অঞ্চল ১৯৭৫ সালে স্পেন ছেড়ে যাওয়ার পর মরক্কো ও পলিসারিও ফ্রন্টের মধ্যে সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়। মরক্কো অঞ্চলটির ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে, অন্যদিকে পলিসারিও ফ্রন্ট স্বাধীনতার দাবি করে আসছে।
এই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মরক্কোর সঙ্গে স্পেনের সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ ২০২২ সালে স্পেন পশ্চিম সাহারার জন্য মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছিল, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
তবে স্পেনের সরকারের সমর্থকরা বলছেন, এই আইন কোনও ভূখণ্ডগত অবস্থান পরিবর্তন করছে না; এটি মূলত ব্যক্তি মানুষের আইনি পরিচয় ও অধিকার পুনর্বহালের বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম সাহারার বহু মানুষের কাছে এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ নয়; এটি দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত পরিচয় ও আইনি অবস্থার অবসানের প্রতীক। তবে একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ উত্তর আফ্রিকার রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।



