ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার পথেই হাঁটছে কি ব্রিটেন?

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার সমর্থনে এনআরএম সদস্যরা
ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে।
ব্রিটেনের রাজনীতিতে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে 'ব্রেক্সিট রিগ্রেট' ব সংক্ষেপে যাকে বলা যায়, ব্রেগ্রেট। ব্রেক্সিট অনুশোচনা মূলত কী? ব্রেক্সিট রিগ্রেট বা ব্রেক্সিট অনুশোচনা হলো অনেক ব্রিটিশ নাগরিকের মনে গড়ে ওঠা এক রাজনৈতিক অনুশোচনা। ২০১৬ সালের গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের অনেক নাগরিকের মনে এই হতাশা বা অনুশোচনার জন্ম নিয়েছিল।
বর্তমানে এই অনুশোচনা তীব্র রূপ নিচ্ছে। নাগরিকরা মনে করছেন, ইইউ ত্যাগ করার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। ব্রেক্সিট নিয়ে জনমনে রয়েছে স্পষ্ট আফসোস। মানুষ বুঝতে পারছে যে, সিঙ্গেল মার্কেট বা কাস্টমস ইউনিয়নের সুবিধা ছাড়া অর্থনৈতিক মুক্তি কঠিন তাদের জন্য। তবে সরাসরি আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে না হেঁটে স্টারমার সরকার সম্ভবত ভাবছেন বিকল্পের কথা। ধীরে ধীরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের সাথে ব্রিটিশ আইনকে মিলিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নেবেন তারা।
তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি ভোটার আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের পূর্ণ সদস্যপদের প্রতি সমর্থন। কাস্টমস ইউনিয়ন বা সিঙ্গেল মার্কেটে যোগ দেওয়ার মতো মধ্যবর্তী বিকল্পগুলোর চেয়ে বেশি জনপ্রিয় এখন পূর্ণ সদস্য পদ গ্রহণের এই চিন্তা।
বেস্ট ফর ব্রিটেন-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে। বিপক্ষে ৩২ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ৪৯ শতাংশ কাস্টমস ইউনিয়ন এবং ৪৬ শতাংশ সিঙ্গেল মার্কেটে যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এছাড়াও ৬১ শতাংশ মানুষ সরকারের বর্তমান ‘রিসেট’ নীতিকে সমর্থন করেছেন। ব্রাসেলসের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন ও ঘনিষ্ঠ করা যার লক্ষ্য।
বেস্ট ফর ব্রিটেনের প্রধান নির্বাহী নাওমি স্মিথের মতে, কাস্টমস ইউনিয়ন বা সিঙ্গেল মার্কেটের মতো মধ্যবর্তীপন্থার সমাধানগুলো খুবই অস্পষ্ট হয়। তার ভাষ্য, এসব বিকল্পের পথে হাঁটার জন্য দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু কেবল পূর্ণ সদস্যপদই অর্থনৈতিক সুবিধা ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা দিতে পারে।
প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক টম ব্রুফাত্তো জানান, গবেষণার এই ফলাফল প্রমাণ করছে যে, ইউরোপ নিয়ে সরকারের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা অত্যাবশ্যক। তার মতে, ইউনিয়নে ব্রিটেনের পূর্ণ সদস্যপদই সবচেয়ে টেকসই নীতিগত বিকল্প হভে।
ইইউতে ফেরার সমর্থন সবচেয়ে বেশি লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন পার্টির সমর্থকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তাদের ভোট যথাক্রমে ৮৩, ৮৪ ও ৮২ শতাংশ। কনজারভেটিভ সমর্থকদের মধ্যে এ হার ৩৯ শতাংশ। আর রিফর্ম ইউকের সমর্থকদের মধ্যে সমর্থনের হার ১৮ শতাংশ।
লেবার পার্টির সাবেক নেতা নিল কিনকে জানান, এই ফলাফল দেখাচ্ছে যে, এমন সময়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের সবার জীবন নিয়ে যুদ্ধের খেলা খেলছেন। তিনি আরও বলেছেন, এখন ব্রিটেনের বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়া উচিত তার ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে। সেখানেই যুক্তরাজ্য সিদ্ধান্ত ভাগাভাগি করতে এবং কার্যকর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। তিনি বলেছেন, অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি করেছে ব্রেক্সিট। তার মতে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।
এখন কর্মকর্তারা ইইউর পণ্যসংক্রান্ত বিধির সঙ্গে নিজেদের পণ্য নীতির সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রীরা বলছেন, এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে, হ্রাস পাবে খরচও।
৭মে স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে আরও তীব্র হয়ে ওঠেছে এই বিতর্ক। ফল খারাপ হলে লেবার পার্টির কিছু ইউরোপপন্থী নেতা আরও দ্রুত ব্রাসেলসের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পক্ষে চাপ দিতে পারেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

