ফকল্যান্ড নিয়ে পাল্টা হুমকি, ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে ইসরায়েল
- পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতির পরই কি তেল আবিবের নতুন কৌশল?

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেন-ইসরায়েল সম্পর্কে তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা। ইসরায়েলি মন্ত্রীদের একাংশ ব্রিটেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা বলার পর প্রশ্ন উঠছে, এ কি শুধু ফকল্যান্ড ইস্যুর প্রতিক্রিয়া, নাকি পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি অবৈধ বসতি নিয়ে লন্ডনের কঠোর অবস্থানের জবাবও এতে মিশে আছে?
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আই ও মঙ্গলবার দ্য মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিতর্কে ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও অন্যান্য ডানপন্থী রাজনীতিকরা ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে আরও বড় একটি কূটনৈতিক সংঘাত। এর আগে ব্রিটেন ঘোষণা করেছে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য ও পরিষেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করছে তারা। লন্ডনের দাবি, এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি সমাধানের পথে বড় বাধা।
সোমবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ফিলিস্তিনি অধিকার এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জোরদারের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে লন্ডন।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে ইসরায়েল সরকার। তেল আবিবের অভিযোগ, ব্রিটেন একতরফাভাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, লন্ডন যদি নিষেধাজ্ঞার পথে এগোয়, তবে তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
এর মধ্যেই সামনে আসে ফকল্যান্ড প্রসঙ্গ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার। তাঁর মন্তব্য ব্রিটেনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের ইসরায়েল নীতির সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, লন্ডন ইসরায়েলের প্রতি বৈরী আচরণ করছে।
ইয়ার নেতানিয়াহুর মন্তব্য অবশ্য ইসরায়েল সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। তবে এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ব্রিটেন ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফকল্যান্ড ইস্যুতে ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ক্ষোভের পেছনে শুধু দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন নেই; এর সঙ্গে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক ইসরায়েল নীতির বিরোধিতাও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরের বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগকে তেল আবিব তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এই অঞ্চল ঘিরেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই আবারও দ্বীপপুঞ্জের দাবি জোরালো করেছেন। একই সময়ে ফকল্যান্ডের তেল প্রকল্প ঘিরেও ব্রিটিশ ও ইসরায়েলি কোম্পানির ভূমিকা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
তবে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, ফকল্যান্ডের বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষা করা হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও লন্ডন বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তির স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তাই নতুন প্রশ্ন উঠছে, ফকল্যান্ড নিয়ে এই কূটনৈতিক সংঘাত কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি পশ্চিম তীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক অবস্থানেরই প্রতিফলন?





