পোপ লিও
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি মানবজাতির জন্য হুমকি

ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সের তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সূচনা লগ্নে আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানবজাতির জন্য কী ধরনের সুদূরপ্রসারী ও গভীর হুমকি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তীব্র সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বর্তমান গতিপ্রকৃতি এবং অন্ধ বিকাশ মানবসমাজকে এক মারাত্মক নৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্যারিসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো-র সদর দপ্তরে প্রদত্ত এক ভাষণে পোপ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক নৈতিকতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যন্ত্র ও অ্যালগরিদমের এই ক্রমবর্ধমান দৌরাত্ম্যে মানুষের নিজস্ব সত্ত্বা, মৌলিক স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পোপ লিও তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার যদি কঠোর নৈতিক কাঠামো এবং মানবকেন্দ্রিক দর্শনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত না হয়, তবে তা মানবসমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবীয় চিন্তার পরিপূরক হতে গিয়ে বহু ক্ষেত্রে মানুষের সহজাত সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক বন্ধনগুলোকে বিপন্ন করে তুলছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় নৈতিক বিচক্ষণতা ও দায়িত্ববোধের অভাব মানবজাতিকে এক চরম এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে তিনি বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি জোরালো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রযুক্তি সর্বদা মানুষের কল্যাণ ও সেবায় নিয়োজিত থাকা উচিত; কোনোভাবেই তা মানবজাতির ওপর আধিপত্য বিস্তার বা অবিচারের হাতিয়ার হওয়া কাম্য নয়। আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তিগত একচেটিিয়াকরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারব্যবস্থাসহ মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে পণ্যের মতো কেনাবেচার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। নৈতিকতাহীন অগ্রগতি মানবতার জন্য কল্যাণের বদলে দীর্ঘমেয়াদী অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তিন দিনের এই ফ্রান্স সফরে পোপ লিও দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বুদ্ধিজীবীদের সাথেও মতবিনিময় করছেন। এছাড়া ঐতিহাসিক নটরডেম ক্যাথেড্রাল পরিদর্শন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এআই ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক শান্তি, অভিবাসী সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত নৈতিক দায়িত্বের বিষয়গুলোও তার এই সফরের প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পেয়েছে।



