চীনের জ্বালানি চাহিদা কমায় স্বস্তিতে বৈশ্বিক তেলবাজার

ছবি: রয়টার্স
ইরান যুদ্ধ শুরুর তিন মাস পর এসে নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি বৈশ্বিক তেলবাজার।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীনের জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কমে গেছে।
চীনের বৃহত্তম পেট্রোল পাম্প নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোপেকের তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে তাদের পেট্রোল বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ এবং ডিজেল বিক্রি ৬ শতাংশ কমেছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ট্রাকের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে জ্বালানির ব্যবহার কমছিল। তবে সাম্প্রতিক পতন আরও বেশি যা অবাক করেছে শিল্প সংশ্লিষ্টদের।
গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, এপ্রিল মাসে পেট্রোল ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি পণ্যের ব্যবহার প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে চীনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জিএল কনসাল্টিং এই হার প্রায় ১৫ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে।
তবে মহামারির সময়ের মতো এবার মানুষের ভ্রমণ থেমে নেই। বরং ভ্রমণের ধরন বদলেছে অনেকে। চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিল মাসে রেলপথে যাত্রা বছরে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে গত বছর এই হার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। অনেক শহরে বৈদ্যুতিকচালিত মেট্রো ও ট্যাক্সি ব্যবহারের হারও দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) দেশ চীনে এপ্রিল মাসে ইভি ব্যবহারের মাত্রাও বেড়েছে। রাষ্ট্র-সমর্থিত চায়না চার্জিং অ্যালায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় চার্জিংয়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই পরিসংখ্যান বলছে, চীন আগের ধারণার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি ব্যবহার করেই চলতে পারছে। ফলে আমদানি করা তেলের প্রয়োজনও কমছে অনেকটা। চীনে ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেকই পেট্রোল ও ডিজেলে রূপান্তরিত হয়।
জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের ভাষ্য, জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং বিমান ভাড়ার কারণে অনেক ভোক্তা নীরবে তেলনির্ভর পরিবহন থেকে সরে গেছেন।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। কম দামের সময় গড়ে তোলা মজুত থেকে তেল ব্যবহার করায় আমদানির প্রয়োজন কমেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির আংশিক অচলাবস্থাজনিত চাপও কিছুটা লাঘব হয়েছে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছে।




