ভয়ে নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর বহনকারী বিমান
- নিরাপত্তা শঙ্কায় তিন দিনের সফর এখন ছয় ঘণ্টার: দেখা হচ্ছে না বন্ধু ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের সঙ্গেও
- ভাষণ চলাকালে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে চলছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। ১৯৩ সদস্যের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সাধারণ বিতর্কে এ অধিবেশনে অংশ নিতে একত্রিত হয়েছেন প্রায় ১৩০টি সদস্য দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। বাকি দেশগুলো অংশ নিচ্ছে তাদের মন্ত্রী বা প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে। তবে, অধিবেশনে যুক্ত হতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো নিয়ে এক ভিন্ন ও নাটকীয় পরিস্থিতিতে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মেয়র জোহরান মামদানির নিউ ইয়র্কে পা ফেললেই নিরাপত্তা সংকটে পড়তে পারেন তিনি। সেই ভয়ে নিজের তিন দিনের সফর সংক্ষিপ্ত করে কয়েক ঘণ্টায় নামিয়ে এনেছেন নেতানিয়াহু। দেখা করবেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ব্যবসায়ী ইলন মাস্কের সঙ্গেও। এসব তথ্য উঠে এসেছে ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের এক প্রতিবেদনে।
জাতিসংঘের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ভাষণ রাখবেন নেতানিয়াহু। ওয়াই নেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার ভাষণের মূল বিষয়বস্তু হবে ইরানের হুমকি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাষণে কিছু ‘আশ্চর্যজনক বিষয়’ বা চমক থাকতে পারে। তবে ইসরায়েলি দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নেতানিয়াহুর ‘উইং অব জায়ন’ নামে পরিচিত বিমানটি নিউ ইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে না। পরিবর্তে সেটি নামবে নিউ ইয়র্ক থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরের নিউ জার্সির নেওয়ার্ক বিমানবন্দর অথবা কোনো এক সামরিক ঘাঁটিতে। হঠাৎ এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়জনিত জটিলতা। এ ছাড়া নেতানিয়াহুর অবস্থানকালে নিউ ইয়র্কের কোনো বিমানবন্দরে তার বিমানটি থাকার অনুমতি না-ও পেতে পারে— রয়েছে এমন আশঙ্কাও। নিরাপত্তা সংশয়ে আনুমানিক মাত্র ছয় ঘণ্টা নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট।
কেন এত সংক্ষিপ্ত সফর:
নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় মামদানির সৃষ্ট উত্তেজনার কথা। তিনি নেতানিয়াহুর একজন সোচ্চার সমালোচক। মামদানি বারবার দাবি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে যেন গ্রেপ্তার করা হয় নেতানিয়াহুকে। তবে চলতি বছরের জুলাই মাসে মেয়র স্বীকার করেছিলেন, এই পরোয়ানা কার্যকর করার মতো কোনো স্বতন্ত্র আইনি এখতিয়ার নিউ ইয়র্ক শহরের নেই। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, এই পরোয়ানা কার্যকর করার মতো কোনো স্বতন্ত্র আইনি ক্ষমতা আমাদের নেই। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন তারা আইসিসিতে যোগ দেয় এবং কার্যকর করে পরোয়ানাটি।
নেতানিয়াহুর সফরে নিউ ইয়র্কে বিরাজ করতে পারে অস্থিরতা। ইসরায়েলের হারিৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজপথ ও সাধারণ পরিষদ, উভয় জায়গাতেই বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফিলিস্তনপন্থীরা। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন কিংবা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা।
দেখা করবেন না ট্রাম্প ও ইলনের সঙ্গে:
নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়সূচিতে এসেছে নানান পরিবর্তন। নিউ ইয়র্কে পৌঁছে সেখানে রাত কাটাবেন না তিনি। দিনের দিন অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে নিজ দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন নেতানিয়াহু। পূর্বের সূচি অনুযায়ী তার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা বুধবার। টেক্সাসে ইলন মাস্কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার শিডিউলও ছিল নেতানিয়াহুর। দ্য জেরুজালেম পোস্টের গত মঙ্গলবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে একটি দল আগেই টেক্সাসে পৌঁছে সফর ও বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এমনকি স্পেসএক্সের স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের বিষয়টিও ছিল বিবেচনায়। তবে গত সপ্তাহের শেষের দিকে দলটিকে জানানো হয়, সফরটি বাতিল করা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু নিজেই বাতিল করেছেন টেক্সাস সফরটি। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎও বাতিল হয়েছে নেতানিয়াহুর। তিনি জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় ওয়াশিংটনে থাকবেন ট্রাম্প। তবে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



