ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি : দ্য গার্ডিয়ান
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ পুরো দেশকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়া—এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাজধানীর জ্বালানি অবকাঠামো ও দিনিপ্রো নদীর ওপর একটি সেতুতে রাতভর রুশ হামলার পর তিনি এ অভিযোগ করেছেন।
জেলেনস্কি বলেন, আগামী সপ্তাহে শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে রাশিয়া লাখো মানুষের শহর কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
রাশিয়ার অব্যাহত হামলার মুখে ইউক্রেনের প্রতি আরও মনোযোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হওয়া কংগ্রেসের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান। জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনকে একা ফেলে রাখা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’
কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সর্বশেষ হামলায় ১৭২টি ড্রোন ও ৩৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। জেলেনস্কি জানান, হামলায় শহরটির বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।
পাঁচটি অঞ্চলের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিয়েভে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ হিসেবে পরিচিত শহরের নর্দার্ন ব্রিজ শনিবার বন্ধ রাখা হয়। সেতুটির সড়কপৃষ্ঠ ও বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ চলছিল।
গত এক সপ্তাহ ধরেই বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে ভুগছেন কিয়েভের বাসিন্দারা। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শীতের কঠিন সময়ে বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে আত্মসমর্পণে বাধ্য করাই ক্রেমলিনের লক্ষ্য। তাদের মতে, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল।




