ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানকে সহায়তার কথা স্বীকার করল চীন

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান
গত বছর ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে চীন।
সংঘাত চলাকালে চীনে তৈরি একটি যুদ্ধবিমান ভারতের ফরাসি তৈরি অন্তত একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান।
গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়নার (এভিআইসি) প্রকৌশলীরা পাকিস্তানি অভিযানে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বর্ণনা করেছেন। এই স্বীকারোক্তিটি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে চীনা কর্মীদের ভূমিকার বিষয়ে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বহরে চীনে তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান রয়েছে। ধারণা করা হয়, সংঘাতের সময় এ ধরনের একটি যুদ্ধবিমান ফ্রান্সে তৈরি অন্তত একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল।
এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো চীনা মডেলের যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের বিমান ভূপাতিত করার খবর প্রকাশ পাওয়া এবং একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো কোনো রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা।
ঝ্যাং বললেন, ‘সহায়তা ঘাঁটিতে আমরা প্রায়ই যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের গর্জন এবং বিমান হামলার সাইরেনের অবিরাম শব্দ শুনতাম। মে মাসের শেষভাগে সকাল হওয়ার আগেই তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যেত। এটি মানসিক ও শারীরিকভাবে আমাদের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা ছিল।’
ঝ্যাং সিসিটিভিকে জানান, তার দলকে অনুপ্রাণিত করেছিল ‘মাঠপর্যায়ে আরও ভালো সহায়তা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা’ এবং তাদের সরঞ্জাম যেন ‘প্রকৃতপক্ষে পূর্ণ যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারে’ তা নিশ্চিত করার ইচ্ছা।
ঝ্যাং হেং আরও বলেছেন, ‘এটি শুধু জে-১০সিইর স্বীকৃতি ছিল না; বরং প্রতিদিন পাশাপাশি কাজ করার মাধ্যমে যে গভীর বন্ধন তৈরি হয়েছিল, তারও প্রমাণ ছিল।’
একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী শু দা যুদ্ধবিমানটিকে বর্ণনা করেন ‘সন্তান’ হিসেবে।
শু দা বলেছেন, ‘আমরা এটিকে লালন-পালন করেছি, যত্ন নিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর হাতে তুলে দিয়েছি। এরপর এটি একটি বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল। জে-১০সিই যে অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছে, তাতে আমরা খুব একটা বিস্মিত হইনি এবং এটি মোটেও আকস্মিক মনে হয়নি।’
তিনি আরও বললেন, ‘আসলে এটি অনিবার্যই মনে হয়েছিল। বিমানটির শুধু সঠিক সুযোগের প্রয়োজন ছিল। আর যখন সেই মুহূর্ত এলো, তখন এটি ঠিক সেভাবেই পারফর্ম করেছে, যেমনটা আমরা জানতাম।’
জে-১০সিই হলো জে-১০সি ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের রপ্তানিযোগ্য সংস্করণ এবং এটিকে জে-১০ সিরিজের সবচেয়ে উন্নত মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনের বাইরে পাকিস্তানই একমাত্র পরিচিত দেশ, যারা জে-১০সি ব্যবহার করে। ২০২০ সালে ৩৬টি যুদ্ধবিমান এবং ২৫০টি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করেছিল পাকিস্তান।
গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে, যার আওতায় পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানও ভারতের বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়।






