বিয়েতে অতিথি চেয়ে ভিডিও বার্তা, হাজির হাজারো মানুষ

বিয়ের গেটে জড়ো হয়েছেন হাজারো মানুষ। ছবি : সংগৃহীত
বিয়ের দিন। চারদিকে উৎসবের আমেজ। অথচ এই দিনটি নিয়ে একসময় দুশ্চিন্তায় ছিলেন চীনের ২৪ বছর বয়সী তরুণ শু ছেংহং। ভয় ছিল, বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হবেন হাতে গোনা কয়েকজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার বিয়েতে হাজির হলেন হাজারো মানুষ। তাদের বেশির ভাগই তার কাছে একেবারে অপরিচিত।
চীনের ইউনান প্রদেশের ঝাওতং শহরের ইলিয়াং কাউন্টির লুওয়াং মিয়াও জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দা শু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘শিয়াও শিয়াও শু’ নামে পরিচিত। ছোটবেলা থেকেই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান। পাঁচ বছর বয়সে মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। এরপর দাদি তার ও বড় ভাইয়ের দেখাশোনা করতেন। কিন্তু দুই বছর পর দাদিও মারা যান। দুই ভাই আত্মীয়দের সহায়তায় বড় হন।
অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকার জন্য কাজে নামতে হয় শুকে। কখনো কারখানায়, কখনো খাবার বিক্রি, আবার কখনো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন তিনি। এভাবে সঞ্চয় করে প্রেমিকাকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু বিয়ের আয়োজন নিয়ে তার মনে ছিল একটাই ভয়—আত্মীয়স্বজন কম, অতিথিও হয়তো আসবেন হাতে গোনা কয়েকজন। ২৫ অক্টোবর সেই দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ৩১ অক্টোবরের বিয়েতে অপরিচিত নেটিজেনদের আমন্ত্রণ জানান। ভেবেছিলেন, হয়তো ১০-২০ জন আসবেন। কিন্তু তার সেই ডাক ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
এরপর যা ঘটল, তা কল্পনাও করেননি শু। চীনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতে শুরু করেন তার গ্রামে। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে অতিথির সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজারে পৌঁছায়। কেউ নিয়ে আসেন ফ্রিজ ও ঘর গরম রাখার চুলা, কেউ আস্ত শূকর। সিচুয়ান প্রদেশের এক ব্যক্তি ২০ হাজার ইউয়ান মূল্যের দুটি গরুও উপহার নিয়ে আসেন। অনেকে বিয়ের গাড়ি, ছবি তোলা ও সাজসজ্জার দায়িত্ব নেন।
খাবারের আয়োজন ছিল বিশাল। ২৯ অক্টোবর এক দিনেই তিয়ানমা মুরগির ঝোল রান্না করতে দুই টন মুরগির মাংস ব্যবহার করা হয়। রান্নার কাজে যুক্ত হন শতাধিক রাঁধুনি। প্রায় ৫০টি চুলায় রাতভর রান্না চলে। অতিথিদের কেউ কেউ রাত দুইটা পর্যন্ত খাবার পেয়েছেন।
৩১ অক্টোবর বিয়ের দিনেও উৎসবের আমেজে মুখর ছিল এলাকা। অনলাইনে একটি ছোট্ট আমন্ত্রণ জানিয়ে যে তরুণ ভেবেছিলেন, তার বিয়েতে হয়তো কয়েকটি টেবিলও পূর্ণ হবে না, সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন দূরদূরান্তের হাজারো মানুষ।
শুর কাছে তারা অপরিচিত ছিলেন। কিন্তু বিয়ের দিন সেই অপরিচিত মানুষরাই যেন হয়ে উঠলেন তার আপনজন।
সূত্র : সাংহাই ডেইলি




