চীনের কাছে ক্ষমা চাইল রিয়াল মাদ্রিদ

সংগৃহীত ছবি
চীনে তীব্র বিতর্কের মুখে অবশেষে ক্ষমা চেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের মন্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের প্রায় এক দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। এর আগে এমবাপ্পে ও লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও ক্ষমা চেয়েছিলেন। চীনের বাজারে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই রিয়াল এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ক্লাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমবাপ্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে চীনা জনগণের মনে কোনো কষ্ট তৈরি হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখিত রিয়াল মাদ্রিদ। চীন, দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি ক্লাবটির প্রতি ভালোবাসা রাখা লাখো চীনা সমর্থকের প্রতিও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে তারা।
এমবাপ্পের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও সমর্থন করেছে রিয়াল। নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ফরাসি তারকা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ। এমবাপ্পের মন্তব্যকে ক্লাবের অবস্থান নয় বরং তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখছিল তারা।
চায়না মিডিয়া গ্রুপের অধীন স্পোর্টস অ্যান্ড ইয়ুথ সেন্টারের এক মুখপাত্র রিয়ালের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য, এমবাপ্পে ক্লাবটির খেলোয়াড় হওয়ায় তার কর্মকাণ্ডের দায় পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারে না রিয়াল।
মুখপাত্রের অভিযোগ, এমবাপ্পের মন্তব্য বাক্স্বাধীনতার সীমা ছাড়িয়ে চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আগ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলোচনা স্থগিত রাখার কথাও জানান তিনি।
রিয়ালের আগে এমবাপ্পে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। এরপর গতকাল চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের সময় চীনা জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস।
এদিকে বিতর্কের জেরে চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমবাপ্পের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করেছে। চীনে স্প্যানিশ লিগের সম্প্রচার নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে এমবাপ্পেকে তার মুখ ব্যবহার করে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক ছবি নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি জানান, চীনের এক স্বৈরশাসকের ছবিতে তার মুখ বসানো মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হেসেছেন।
ছবিটিতে চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের অবয়ব ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এমবাপ্পের মন্তব্যকে চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক চুক্তি ও ফুটবল সম্প্রচারের ওপরও প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



