বিদেশিদের সঙ্গে আঁতাতের কথা ‘স্বীকার’ করলেন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেতা

জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মামলায় শুনানি ও সাজা ঘোষণার জন্য কারাগারে থাকা গণতন্ত্রপন্থী কর্মী জশুয়া ওংকে বহন করা প্রিজনভ্যান চীনের হংকংয়ের হাইকোর্টে পৌঁছেছে।
বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন চীনের হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী কর্মী জশুয়া ওং। স্থানীয় সময় বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় করা এ অভিযোগে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
২৯ বছর বয়সী ওং কিশোর বয়সেই হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের নেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। তার নেতৃত্বে তরুণদের একটি অংশের আন্দোলন একসময় হংকংয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ২০২০ সালে বেইজিং হংকংয়ে কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার পর এসব আন্দোলন কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সময় বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে সরকার অনুমোদিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিচারকের সামনে ওং দোষ স্বীকার করেন। এ সময় তার পরনে ছিল গাঢ় নীল শার্ট ও কালো ফ্রেমের চশমা। আদালতের কাঠগড়া থেকে তিনি উপস্থিত লোকজনের দিকে হাত ও মাথা নাড়েন। শুনানিতে কয়েকজন পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বিলুপ্ত রাজনৈতিক দল ডেমোসিস্টো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছিল। দলটি একসময় হংকংয়ের সার্বভৌমত্ব নিয়ে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। আর ওং ছিলেন দলটির অন্যতম নেতা। ২০১৯ ও ২০২০ সালে হংকং ও চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।
ওং এখন কারাগারে রয়েছেন। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আরেক মামলায় উপদ্রব বা রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়। ২০২০ সালে গণতন্ত্রপন্থী কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক প্রাথমিক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘটনায় ওই মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। তার এখনকার সাজা আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা।
এর আগে রয়টার্সের দেখা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, নির্বাসিত গণতন্ত্রপন্থী কর্মী নাথান ল এবং অন্যদের সঙ্গে মিলে ওং বিদেশি দেশ, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা চীনের বাইরের ব্যক্তিদের হংকং ও চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে হংকং ও চীনের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া এবং অন্যান্য বৈরী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছিল।
ওংয়ের মামলা এবং একই ধরনের অন্যান্য মামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশের ঘনিষ্ঠ নজরদারিতে রয়েছে। এসব দেশ হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্র: রয়টার্স








