ককরোচের পাশে ইন্ডিয়া জোট!
- ককরোচের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষের প্রতিফলন

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন উপেক্ষা না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কোনো কোনো শরিক নেতা। দিল্লিতে সোমবার জোটটির বৈঠকে এমন দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিন তাদের আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে সিজেপি। সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া পার্টিটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ কেন বাড়ছে, তা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হয়েছে বিস্তর আলোচনা। শরিক নেতাদের দাবিকে প্রাধান্য দিয়েই বৈঠকে চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা।
গত ১৫ মে তরুণদের লক্ষ্য করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি তীর্যক মন্তব্য ঘিরে গড়ে ওঠে প্যারোডি রাজনৈতিক দল সিজেপি। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে দলটির ফলোয়ার ২২ মিলিয়নেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে করেছেন বিক্ষোভ সমাবেশ।
সোমবার দিল্লিতে ভারতের সংসদ ভবনের কাছে কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক বসেছিল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইন্ডিয়া) জোটের। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার পর এ বৈঠকের আয়োজন করতে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, এবার থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক বসবে। পরের বৈঠক আগস্ট মাসে, কংগ্রেসশাসিত তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মতে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির বিষয়টি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষের প্রতিফলন। শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা উদ্ধব ঠাকরে প্রশ্ন তোলেন, একটি অনলাইন আন্দোলন যদি এত মানুষের সমর্থন পেতে পারে, তবে বিরোধী দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা কমছে কি না, তা আত্মসমালোচনা করে দেখা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, শুধু ভোটের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থেকে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বিরোধীদের।
বৈঠকে সিজেপির ব্যানারে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের প্রসঙ্গ তোলেন ফরোয়ার্ড ব্লকের জাতীয় সম্পাদক জি দেবরাজন। তিনি বললেন, সংগত কারণেই আজ তরুণ প্রজন্ম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। একদিকে বেকারত্ব, অন্যদিকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সিবিএসসি পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের উচিত এই তরুণদের পাশে দাঁড়ানো। সমর্থন জানানো তাদের দাবিকে।
দেবরাজনের প্রস্তাবে সমর্থন করেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ। তার মতে, ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে বিরোধীদের আলোচনা করা উচিত। কারণ, তারা নিশ্চয়ই এমন কিছু করছে, যা মানুষের কাছে হচ্ছে গ্রহণযোগ্য। সিপিআই (এমএল) নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও ককরোচ আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দেন। সিপিআই (এম)-এর জন ব্রিটাস বলেছেন, সিজেপি আসলে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
তেলাপোকাদের আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অনেক ধরনের মত রয়েছে। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি মনে করছে, ওই আন্দোলনে পাকিস্তান ও মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরসের মদদ রয়েছে। কংগ্রেসের একাংশের ধারণা, তাদের কারও কারও পেছনে মদদ রয়েছে আম আদমি পার্টির (আপ)। যেহেতু সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা একসময় যুক্ত ছিলেন আপের সঙ্গে।
তবে দেবরাজন ও ওমর আবদুল্লাহদের যুক্তি, যুব সমাজ যখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে, তখন দাবিকে সমর্থন না জানানো বোকামি হবে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সেই যুক্তি মেনে নেন। তিনি বললেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনি যখন ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ প্রমাণ করছিলেন, তখন তিনি ছিলেন একা। তার সমর্থনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা এগিয়ে আসেনি। এখন যদিও সবাই বুঝতে পারছেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে ভোট চুরি করে বিরোধীদের হারাচ্ছে। কীভাবে এসআইআরকে করা হয়েছে হাতিয়ার।
সোমবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসআইআর ও ভোট চুরি প্রতিকারে ‘ইন্ডিয়া’ জোট দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবে। মমতা চেয়েছিলেন, জোটের প্রতিনিধিরা কমিশনে গিয়ে দরবার করুক। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও আইনজীবী কপিল সিব্বাল চিঠি দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
সোমবারের বৈঠকে আরও ঠিক হয়েছে, সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে জোটের ফ্লোর কো-অর্ডিনেশন বৃদ্ধি করা হবে। অধিবেশন চলাকালে নিয়মিত বৈঠক বসবে সংসদ ভবনে মল্লিকার্জুন খাড়গের অফিসে। কেন্দ্রীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটবদ্ধ হলেও রাজ্যস্তরে শরিকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব যথেষ্ট। তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকের হাত ছেড়ে টিভিকের দিকে কংগ্রেস ঝুঁকে পড়ায় চিড় ধরেছে দুই দলে।




