চীনা যন্ত্রাংশে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা হুতিদের
- পাল্লায় আসতে পারে ইসরায়েলও

ফাইল ছবি
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের বন্দরের পথে আটক করা চালান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ধাতব যন্ত্রাংশ। দেখতে বিচ্ছিন্ন কিছু সরঞ্জাম মনে হলেও অস্ত্রবিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত। ইরানের তৈরি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে নিজেদের অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে হুতিরা। চীন থেকে আসা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেই চেষ্টা সফল হলে সৌদি আরবের পাশাপাশি ইসরায়েলও তাদের সম্ভাব্য পাল্লার মধ্যে চলে আসতে পারে।
গত বুধবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও দ্য নিউ আরবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের অনুসন্ধানে এই পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে। ইরানের ‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে মাঝারি পাল্লার অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতিরা। মূল ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার। এটির সমতুল্য অস্ত্র তৈরি করতে পারলে ইসরায়েল, সৌদি আরব, জর্ডান ও মিসরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর আওতায় আসতে পারে।
এমন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকেও নাগালের মধ্যে আনতে পারে। তবে গবেষকরা নির্দিষ্ট কোনো স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেননি।
তবে সম্ভাব্য পাল্লা আর প্রস্তুত অস্ত্র এক বিষয় নয়। নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, এর পরীক্ষা সফল হয়েছে, কিংবা এটি মোতায়েন করা হয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ গবেষকরা প্রকাশ করেননি। এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হুতিরা আগেও ইসরায়েলের দিকে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। নতুন প্রকল্পের লক্ষ্য, সেই সক্ষমতা আরও বাড়ানো।
গবেষণাটি তৈরি করা হয়েছে ইয়েমেনের সরকারি কর্তৃপক্ষের আটক করা দুটি চালানের তথ্যের ভিত্তিতে। গত বছর চীন থেকে পাঠানো চালান দুটির গন্তব্য ছিল হুতিনিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দর। জুলাইয়ে গবেষকদের কাছে চালানগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় রকেট মোটরের অংশ, প্রজ্বালন সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র স্থিতিশীল রাখার পাখনার উপকরণ এবং প্রচণ্ড তাপ থেকে সুরক্ষার কাজে ব্যবহৃত বিশেষ কাঁচামাল।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের অস্ত্রের নকশা ও প্রযুক্তিগত উপকরণের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এবার চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহের বিষয়টিকে বিশ্লেষকরা সরবরাহ ব্যবস্থা বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে চীনের তৈরি যন্ত্রাংশ পাওয়া মানেই বেইজিং সরকার সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করেছে— এমন প্রমাণ নয়। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বলেছে, সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক বিধিবিধান মেনে চলে।
ইসরায়েলের সঙ্গে হুতিদের সংঘাতও এই প্রকল্পকে বিশেষ তাৎপর্য দিচ্ছে।



