ভেনেজুয়েলায় ত্রাণ সংকট, চলছে হরদম লুটপাট

সংগৃহীত ছবি
জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরের লা গুয়াইরা। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষজন ঠাঁই নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে।
খাবার নেই, পানি নেই, ওষুধ সংকট। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট এ চরম সংকটের মধ্যেই লুটপাট চলছে নগরটির দোকানপাটে। বিধ্বস্ত ভবনে থাকা সব দোকান থেকে চুরি হচ্ছে ফ্রিজ, টেলিভিশন। একবেলা খাবারের জন্য লুট হচ্ছে সুপারমার্কেটগুলো। শুধু লা গুয়াইরাই নয়; ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত অন্য শহরগুলোর চিত্রও একই।
এরই মধ্যে ত্রাণ সরবরাহ শুরু হয়েছে অঞ্চলগুলোয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা বেশ ধীরগতি। ফলে রাতের আঁধারে এসব এলাকায় বেড়ে চলেছে লুটপাট। ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকাজ চালানোয় ব্যস্ত রয়েছে এসব শহরের প্রশাসন। সেই সুযোগেই তৈরি হচ্ছে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির। নিরাপত্তার এ অভাবকে কাজে লাগিয়েই লুটে অংশ নিয়েছেন অনেকে। মোটরসাইকেলে যে যেভাবে পারছেন জিনিস লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন। ইলেকট্রিক মালামাল থেকে শুরু করে খাবার পণ্য, সব হচ্ছে লুট। লা গুয়াইরার আশপাশের শহর, কারিবে এবং কারাবালেডায়ও এমন লুটপাটের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন সেসব এলাকার উদ্ধারকর্মীরা।
ভূমিকম্পের আফটারশক এবং ফাটল ধরা ভবন ভেঙে পড়ার ভয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়। মাথার ওপর ছাদ হিসেবে তাদের এখন আছে শুধু একটি তাঁবু। এর মধ্যেই চারপাশে চলছে উদ্ধারকাজ। নিখোঁজ স্বজনকে খুঁজে বের করার প্রাণপণ চেষ্টা। উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছেন অনেকেই। লা গুয়াইরায় এক নারী যন্ত্রপাতির জন্য আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। যে ১২ তলা ভবনে তার বোন থাকতেন, সেটি ধসে পড়ে পরিণত হয়েছে কয়েক মিটার উঁচু ধ্বংসস্তূপে। সেই স্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন তার বোন। আর্তনাদ করতে করতে বলছিলেন, ‘দয়া করে একটা যন্ত্র দিন। আমার বোনকে চাই, সে ওখানে আটকা পড়ে আছে।’
লা গুয়াইরার এ বিপর্যয় ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত আনে। প্রথমটি ছিল ৭ দশমিক ২ মাত্রার। এবং দ্বিতীয়টি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার।






