ড্রোনশিপ দখলের চেষ্টায় ইরানের দুই নৌযান ধ্বংস

মার্কিন ড্রোনশিপ দখলের চেষ্টা করায় ইরানের দুটি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের জলসীমার কাছে একটি মার্কিন ড্রোনশিপ দখলের চেষ্টা করেছিল ইরানের দুটি ছোট নৌযান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, নৌযান দুটি গুলি করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, দক্ষিণ উপকূলের হরমুজগান প্রদেশে দুটি মাছ ধরার নৌকায় হামলা হয়েছে এবং কয়েকজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, চলতি সপ্তাহে ইরানের ছোট নৌযানগুলো একটি মার্কিন ড্রোনশিপ নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ‘ইরানের ছোট নৌযানগুলো সম্প্রতি একটি মার্কিন ড্রোনশিপ নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে সেন্টকম শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখালে ব্যর্থ হয় তারা।’
হকিন্স আরও জানান, যে ড্রোনশিপটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটি ‘সেইলড্রোন’ নামের একটি ছোট নৌযান। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ ফুট বা ৮ মিটার। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে। সামুদ্রিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক বছর ধরে ওই অঞ্চলে এসব নৌযান ব্যবহার করে আসছে সেন্টকম।
তিনি বলেন, কমান্ডের সব চালকবিহীন নৌযানের হিসাব রয়েছে এবং সবগুলোই তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের দাবি, এসব নৌযানে ব্যবহৃত প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য এবং স্পর্শকাতর কোনো প্রযুক্তি এতে নেই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার জানায়, দেশটির দক্ষিণ উপকূলের হরমুজগান প্রদেশে দুটি মাছ ধরার নৌকায় হামলা হয়েছে। প্রাদেশিক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তারা জানায়, ওই ঘটনায় কয়েকজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ঘটনাটি প্রকাশ করে। এর এক সপ্তাহ আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে দেশটির নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি ড্রোন সাবমেরিন আটক করেছে।
তখন হকিন্স বলেছিলেন, ওই নৌযানটি আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণের সময় বিকল হয়ে যায়। পরে সেটির নিয়ন্ত্রণ আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাতে ছিল না। তার ভাষ্য, নৌযানটি ত্রুটিপূর্ণ এবং পুরোনো মডেলের। এতে স্পর্শকাতর কোনো তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি এতে গোপনীয় শব্দতরঙ্গ শনাক্তকারী বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।




