‘দীর্ঘ’ পাঁচদিন পরে প্রিয়জনের কাছে ফেরা

কুসুমডাঙ্গার ৪৬ বছর বয়সী জগত রাম চৌধুরী ও ৪০ বছর বয়সী টিকা রাম চৌধুরী ভোতে কোশি বন্যার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে বাড়ি ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে আছেন। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ বন্যায় আটকে পড়ার পাঁচ দিন পর প্রিয়জনদের কাছে ফিরেছেন নেপালের বারদিয়ার ২৩ শ্রমিক। রবিবার বাড়ি ফেরেন তারা। তাদের কেউ দুই রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন, কেউ টানেল থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন।
তাদের একজন দেশটির বারবারদিয়া পৌরসভার ২ নাম্বার ওয়ার্ডের ৩৮ বছর বয়সী কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরী। বন্যার দিন অন্যের ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে বেঁচে যাওয়ার খবর দিয়েছিলেন তিনি। এরপর কয়েক দিন তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
গত রবিবার রাতে কৃষ্ণ বাড়ি ফেরার পর স্বস্তি ফিরে আসে তার স্ত্রী বিমার মনে। তিনি বলেছেন, ‘রাসুয়ার ভয়াবহ বন্যার খবর আমাদের আতঙ্কিত করে তুলেছিল। আমার স্বামী অন্য একজনের ফোন থেকে কল করে জানান, তিনি অল্পের জন্য বন্যার হাত থেকে বেঁচেছেন। এরপর তার নিজের ফোনে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। এতে আমি খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।’
জুলাইয়ের শেষ দিকে পরিবারের জন্য বাড়তি আয় করতে আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ নিতে রাসুয়ায় গিয়েছিলেন কৃষ্ণ। বুধবার সকালে চীনা এক দলনেতার নেতৃত্বে ১৫ নেপালি শ্রমিক টানেল পরিষ্কারের কাজে ঢোকেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাইরে থাকা এক চীনা কর্মী ওয়াকিটকিতে বন্যার পানি আসার খবর দেন।
শ্রমিকরা দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন। একটি কোম্পানির গাড়ি তাদের টানেল থেকে বের করে আনার পরপরই পানির বিশাল ঢল টানেলে ঢুকে পড়ে। কৃষ্ণ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠে প্রাণে বাঁচেন। পরে দুই রাত খোলা আকাশের নিচে কাটানোর পর হেলিকপ্টারে তাদের নুওয়াকোটে নেওয়া হয়।
আরেক শ্রমিক ৪৬ বছর বয়সী জগত রাম চৌধুরী বরেছেন, হঠাৎ কাদামিশ্রিত পানির ঢল টানেলে ঢুকে পড়েছিল। গামবুট খুলে একটি ছোট ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেই তিনি প্রাণে বাঁচেন। তার এক সহকর্মী টানেল থেকে বের হতে পারেননি।
বন্যায় শ্রমিকদের ক্যাম্পও পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়ে। বাড়ি ফেরার পথেও বিপদ কাটেনি। নাওয়ালপুরে ২৩ শ্রমিককে বহনকারী বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হন।
তবে বারদিয়ার আরও ৭৮ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্বজনরা তাদের দ্রুত খুঁজে বের করতে সরকারের উদ্ধার তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
নেপালে আকস্মিক বন্যায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১২ হাজার মানুষকে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট








