শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি গ্রেপ্তার

শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে ও তার স্ত্রী শিরান্থি রাজাপাকসে— গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থি রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ। তার দাতব্য সংস্থা শিশুদের একটি হাসপাতালের জন্য সংগ্রহ করা অনুদানের অর্থ অপব্যবহার করেছে, এমন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকার একসময় দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা দুর্নীতির তদন্তগুলো আবারও শুরু করেছে। এসব তদন্তের আওতায় রয়েছে প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা। প্রায় দুই দশক ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে পরিবারটির আধিপত্য ছিল।
৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের স্ত্রী শিরান্থিকে রাজধানী কলম্বো থেকে গ্রেপ্তার করে ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত কমিশনের (সিআইএবিওসি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রাজাপাকসের বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক সিআইএবিওসি কর্মকর্তা বললেন, ‘তার সিরিলিয়া সাভিয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
বুধবার পরে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। সেখানে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন, তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাবে কি না।
তার আইনজীবী মনোজ গামাগে সাংবাদিকদের বলেন, শিরান্থি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দাতব্য কাজের জন্য সংগ্রহ করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই করবেন।
সিআইএবিওসি জানিয়েছে, এই দাতব্য সংস্থাকে দেওয়া ১ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি অনুদানের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের সাবেক প্রধানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চিকিৎসার জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর শিরান্থি রাজাপাকসে সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে যাওয়ার আগে কলম্বো বিমানবন্দরে পুলিশকে তার দাতব্য সংস্থা সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে একটি সমন দেওয়া হয়।
নিজেকে গ্রেপ্তার করা ঠেকাতে আদালতে আবেদন করার পর সোমবার তিনি দেশে ফেরেন। তবে আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি আগামী ১২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় একটি শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালের জন্য পিইটি স্ক্যানার কেনার উদ্দেশ্যে তার সিরিলিয়া সাভিয়া দাতব্য সংস্থা যে ১ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি অনুদান সংগ্রহ করেছিল, সেই অর্থের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ শিরান্থি রাজাপাকসেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল।
তদন্তকারীরা আদালতকে জানিয়েছেন, চীনা সরকার ইতিমধ্যেই ওই স্ক্যানারটি দান করেছিল। তা সত্ত্বেও দাতব্য সংস্থাটি অনুদান সংগ্রহ চালিয়ে যায় এবং অর্থের অপব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিরান্থি রাজাপাকসে কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়নি।
পরিবারটির অন্য সদস্যরাও আইনি জটিলতায় পড়েছেন। সাবেক ফার্স্ট লেডির বড় ছেলে এবং বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা নামাল রাজাপাকসে বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। তার বাবা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১৩ সালে সই করা একটি এয়ারবাস উড়োজাহাজ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে তাকে রিমান্ডে রাখা হয়েছে।
রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা বরাবরই দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও তারা দাবি করেছেন।
মাহিন্দা রাজাপাকসে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২২ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিবারটির রাজনৈতিক প্রভাব কমে গেলেও মাহিন্দা এখনো শ্রীলঙ্কার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা।
সূত্র: এএফপি




