শ্রীলঙ্কায় সাবেক পুলিশপ্রধানসহ দুই কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

ইস্টার সানডে হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায়ে সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়াসুন্দর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে হামলা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায়ে দেশটির সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়াসুন্দর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ওই হামলায় ২৭৯ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
শুক্রবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেন তিন বিচারকের বিশেষ বেঞ্চ। আদালত বলেন, দেশীয় একটি উগ্র ইসলামপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।
৬৬ বছর বয়সী পুজিথ জয়াসুন্দর এবং ৭৬ বছর বয়সী হেমাসিরি ফার্নান্দো এই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। তবে জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তাদের বিচারিক হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সালের পর থেকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ কার্যকর রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংসদে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ৮০০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের সাজা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়।
এর আগে ২০২২ সালে একটি আদালত এই দুই কর্মকর্তাকে খালাস দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত নতুন করে মামলার শুনানি শেষে এ রায় দেন।
মামলার শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থা শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলার বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে তথ্যের ভিত্তিতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
ওই বছরের ২১ এপ্রিল সংঘটিত হামলায় তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।
পুজিথ জয়াসুন্দর ও হেমাসিরি ফার্নান্দোকে ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। চার মাস কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের করা একটি দেওয়ানি মামলায় তাদের ১২ কোটি ৫০ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতে যুক্তি দেন, এই দুই কর্মকর্তার অবহেলা ছিল চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় এবং এর ফলে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আদালত শেষ পর্যন্ত তাদের অবহেলার কারণে ২৭৯ জনের মৃত্যুর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন।
সংসদীয় তদন্ত কমিটিতে দেওয়া সাক্ষ্যে জয়াসুন্দর ও ফার্নান্দো দাবি করেছিলেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা হামলার আগে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকি মূল্যায়নের প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। তাদের ভাষ্য, সে সময় প্রতিরক্ষা, আইন ও শৃঙ্খলা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও থাকা প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা সম্ভাব্য হামলার হুমকিকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি।




