নেপালে হিন্দু-মুসলিম সহিংসতায় ৪ জেলায় কারফিউ, নিহত ৩

ছবি: রয়টার্স
সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সহিংস রূপ নিয়েছে নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলের মধেশ প্রদেশে। হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন তিনজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে চার জেলায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন।
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কারফিউ জারি করা হয়েছে সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায়। পারসা জেলায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে নেপাল পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও নেপাল সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রোববার সহিংসতার সূত্রপাত হয় ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে। সেখানে হিন্দুদের শোভাযাত্রা চলাকালে উচ্চস্বরে গান বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা হয় হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে।
পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বলেন, জনতা ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে নিহত হন দুজন। পরে কারফিউ চলাকালেই বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় একটি বিক্ষোভের সময় মৃত্যু হয় আরও একজনের।
গত রোববার রাতে সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতা। একই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিরাটনগরের নিউরো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতা । একই দিন দুপুরে সিরাহা জেলার গোলবাজারে নতুন সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব। চিকিৎসকদের মতে, তার ঘাড়ে গুলি লেগেছিল।
সংঘর্ষে আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে নিহত ও আহতরা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নাকি অন্য কোনো পক্ষের গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে মধেশ প্রদেশের রাজধানী জনকপুরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। বিক্ষোভকারীরা বাজার বন্ধ করে পুলিশ ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে বেলা সাড়ে ৩টা থেকে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়।
কারফিউ কার্যকরে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের ক্ষমতা সেনাবাহিনীকে দিয়েছে ধনুষা জেলা প্রশাসন। জনকপুরে সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার ও পদাতিক টহলও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, সিরাহার গোলবাজারে কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এর আগে বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি দোকান ও শপিং মলে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ চালায়।
সিরাহার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা সুরেন্দ্র পৌডেল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
নেপাল পুলিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে মোতায়েন করেছে অতিরিক্ত সদস্য। পুলিশের মুখপাত্র ডিআইজি অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রক্তপাত এড়াতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটার মতো ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চললেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি নিরাপত্তা বাহিনী।
এ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।




