দীর্ঘায়ু পেলেও সুখে নেই দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ

ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের গড় আয়ু বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি হলেও জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির দিক থেকে দেশটির অবস্থান বেশ নিচে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সর্বশেষ জীবনযাত্রার মানসংক্রান্ত উপাত্তে উঠে এসেছে এই বৈপরীত্য।
এতে দেখা গেছে, দীর্ঘ আয়ুর পাশাপাশি মানসিক চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক নিঃসঙ্গতা দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের জীবনসন্তুষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় মানুষের গড় প্রত্যাশিত আয়ু ৮৩ দশমিক ৬ বছর। সংস্থাটির ৩৮ সদস্য দেশের গড় আয়ু ৮০ দশমিক ৩ বছর। অর্থাৎ গড় আয়ুর হিসাবে দক্ষিণ কোরিয়া স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছে।
তবে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির সূচকে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১০-এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের গড় জীবনসন্তুষ্টির স্কোর ৫ দশমিক ৯। ওইসিডির গড় স্কোর ৬ দশমিক ৭। ৩৮টি সদস্য দেশের মধ্যে জীবনসন্তুষ্টিতে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ৩৩তম।
প্রতিবেদনে দেশটির অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সীমিত সামাজিক সুরক্ষাকে মানুষের কম জীবনসন্তুষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কর্মঘণ্টার হিসাবেও দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির মানুষ বছরে গড়ে ১ হাজার ৯০১ ঘণ্টা কাজ করেন। ওইসিডির সদস্য দেশগুলোর গড় কর্মঘণ্টা ১ হাজার ৭৫২ ঘণ্টা। অর্থাৎ গড়ের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ বছরে প্রায় ১৫০ ঘণ্টা বেশি কর্মক্ষেত্রে সময় কাটান।
দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। সব মিলিয়ে এসব বিষয় মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মানুষের আয়ু বাড়ানো বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই একটি দেশের উন্নয়নের পূর্ণ চিত্র দেয় না। নাগরিকরা কতটা নিরাপদ, মানসিকভাবে সুস্থ এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘায়ুর সাফল্যের পাশাপাশি জীবনসন্তুষ্টির নিম্ন অবস্থান তাই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে দেশটির উন্নয়নের ধরন নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মজীবনে চাপ কমানো, পারিবারিক জীবনের জন্য সময় বাড়ানো এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব না দিলে দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যও মানুষের কাঙ্ক্ষিত সুখ নিশ্চিত করতে পারবে না।




