জাপানে যৌনসেবা ক্রেতাদেরও শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ

জাপানের বর্তমান আইনে প্রকাশ্য স্থানে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা দেওয়ার জন্য ক্রেতা খোঁজা বা এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া শাস্তিযোগ্য।
জাপানে যৌনসেবা কেনার উদ্দেশ্যে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বা অনলাইনে প্রস্তাব ও অনুসন্ধানকে শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে দেশটির আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেল। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত করা প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। ১৯৫৬ সালে প্রণীত পতিতাবৃত্তি-বিরোধী আইন সংস্কারের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব।
বর্তমান আইনে প্রকাশ্য স্থানে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা দেওয়ার জন্য ক্রেতা খোঁজা বা এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া শাস্তিযোগ্য। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২০ হাজার ইয়েন পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু যৌনসেবা নিতে আগ্রহী ক্রেতার পক্ষ থেকে একই ধরনের অনুসন্ধান বা প্রস্তাবের জন্য বর্তমানে কোনো সমতুল্য শাস্তির ব্যবস্থা নেই। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিবেদনে এই আইনি অসমতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় প্রকাশ্য স্থানে যৌনসেবার জন্য ক্রেতা খোঁজা, সম্ভাব্য যৌনসেবা প্রদানকারীদের উদ্দেশ্য করে ঘোরাফেরা বা অনুসন্ধান এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়গুলো শাস্তিযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে।
তবে প্যানেল প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে সংঘটিত যৌনসেবা কেনাবেচার পুরো কর্মকাণ্ডকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ করেনি। প্রতিবেদনে এ ধরনের ব্যাপক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সরকারি নথি অনুযায়ী, যৌনসেবা ও পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেলটি চলতি বছরের মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করে আসছে। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নবম বৈঠকে আলোচনার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টোকিওসহ জাপানের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে যৌনসেবার জন্য ক্রেতা খোঁজার ঘটনা সামাজিক উদ্বেগের কারণ হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতার যোগাযোগের বিষয়টি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
জাপানের বর্তমান আইন মূলত যৌনসেবা প্রদানকারীর প্রকাশ্য ক্রেতা খোঁজার কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য করেছে। নতুন সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের মতো ক্রেতার পক্ষ থেকেও এ ধরনের কর্মকান্ডও আইনের শাস্তির আওতায় আসবে।
তবে প্রস্তাবিত আইনে কোন কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং শাস্তির মাত্রা কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আইন মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা ও এর বিষয়বস্তু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জাপানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে চলতি শরতেই সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
সূত্র: জাপানের আইন মন্ত্রণালয়, ক্যয়ডো নিউজ, টিভি আসাহি



