এআই-অটোমেশনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমবাজার

এন্ট্রি-লেভেল চাকরির অর্ধেকেরও বেশি পদ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয়করণ) ব্যবহারের কারণে তরুণ কর্মজীবীরা চরম সংকটে পড়েছেন। রবিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র 'দ্য কোরিয়া টাইমস'-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কোরিয়ার ডেটা ও পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ডেটার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারে এন্ট্রি-লেভেল ও প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের কর্মসংস্থান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১,৯১,০০০-এরও বেশি কমে গেছে। এর মধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির ৫১.৩ শতাংশই ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং পেশাগত ও প্রযুক্তিগত সেবা খাতে। তথ্য প্রযুক্তি খাতের সফটওয়্যার, টেলিকম ও ডিজিটাল মিডিয়ায় এক মাসেই ৭৪,৫১৭টি চাকরি বিলুপ্ত হয়েছে। এটি ২০১৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ হ্রাস। এছাড়া আইনি সেবা, হিসাববিজ্ঞান ও কর্পোরেট পরামর্শ খাতে ২৩,৬৪০টি চাকরি কমেছে।
পূর্বে অর্থনৈতিক মন্দার সময় রেস্তোরাঁ বা কারখানা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। কিন্তু বর্তমানে জেনারেটিভ এআই-এর ব্যবহারের কারণে অফিসভিত্তিক হোয়াইট-কলার চাকরিতে বড় পরিবর্তন আসছে। প্রতিষ্ঠানগুলো কোডিং, প্রশাসনিক কাজ, প্রাথমিক হিসাবরক্ষণ ও বাজার গবেষণার কাজ এআই দিয়ে সম্পন্ন করছে। ফলে নতুন স্নাতকদের জন্য চাকরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে ব্যাংক অব কোরিয়ার প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংক অব কোরিয়া এই রিপোর্টটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণায় দেখা যায়, দেশটির প্রায় ৫১ শতাংশ চাকরি এআই প্রযুক্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ শতাংশ কাজ সরাসরি এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এন্ট্রি-লেভেল চাকরির অর্ধেকেরও বেশি পদ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তরুণদের এআই-বান্ধব নতুন দক্ষতা অর্জনে সরকারি প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।






