নিখোঁজদের খোঁজে পাহাড়ে উদ্ধারযুদ্ধ

বন্যাবিপর্যস্ত নেপালে এখন শুধুই শোক ও আহাজারি। দেশটির চিতওয়ান অঞ্চলে দুর্যোগে প্রাণ হারান আয়ুশ খড়কা। সন্তান হারানোর বেদনায় মাতম মা মুনা খড়কার -রয়টার্স
ভোটেকোশীর ভয়াল স্রোত ধীরে ধীরে শান্ত হলেও নেপালের পাহাড় জুড়ে থামেনি হারিয়ে যাওয়া মানুষের খুঁজে ফেরার যুদ্ধ। বন্যার ষষ্ঠ দিনেও (সোমবার) ধ্বংসস্তূপ, কাদা আর নদীর উত্তাল স্রোতের মধ্যে চলছে উদ্ধার অভিযান। রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংয়ের বহু এলাকা এখনো সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। কোথাও স্বজনের অপেক্ষায় চোখ, কোথাও নিখোঁজ মানুষের খোঁজে ছুটছে উদ্ধারকারী দল। সর্বশক্তি দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চলছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গেও। রসুয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে গতকাল ভোরে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ চালাল নেপাল সেনাবাহিনী।
গতকাল এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নেপাল সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভোটেকোশী ও ত্রিশূলি নদীর ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯৩৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৫১ জনকে। এখনো নিখোঁজ ৪ হাজার ২৪৭ জন (যোগাযোগ নেই)। এদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক রয়েছেন ৫৯২ জন। আহত হয়েছেন ২৬৭, যাদের মধ্যে ১৫৬ জন চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
দুর্গত মানুষের তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত উদ্ধার সহায়তার জন্য নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২৭ আগস্ট চালু করা হয়েছে ‘রেসকিউ রিকোয়েস্ট পোর্টাল’। সরকারি এই প্ল্যাটফর্মে নিখোঁজ ব্যক্তি, উদ্ধার আবেদন এবং সহায়তার তথ্য এক জায়গা থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পোর্টালে এখনো ৩ হাজারের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য রয়েছে। তবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত হিসাবে নিখোঁজ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মানুষের সংখ্যা আরও বেশি।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া, চিতওয়ান, ধাদিং, তানাহুন, গোরখা, নুওয়াকোট ও নাওয়ালপারাসি পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আকস্মিক এই বন্যার কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছেন জলবায়ু, পর্বত ও হিমবাহ বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধার অভিযানে দিন-রাত কাজ করছেন নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা। বর্তমানে ২০ হাজার ৮১৯ জন নিরাপত্তাকর্মী দুর্গত এলাকায় মোতায়েন রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রসুয়া, টিমুরে, ত্রিশূলি ও ধুনছে অঞ্চলে।







