তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পার
জাপানে প্রথম ‘প্রচণ্ড গরম দিন’ ঘোষণা
- তীব্র গরমে অফিসে শর্টস পরছেন জাপানি পুরুষরা, তবে পায়ের লোম নিয়ে আপত্তি তুলছেন অনেক নারী সহকর্মী

প্রচণ্ড গরমে ছাতা ও ছোট ফ্যান ব্যবহার করছেন জাপানিরা
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জাপান। মঙ্গলবার দেশটির মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা করা হয়েছে ‘কোকুশোবি’ বা ‘প্রচণ্ড গরম দিন’।
একই সঙ্গে অসহনীয় গরমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কর্মসংস্কৃতিতেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অফিসে সুট-টাই ছেড়ে শর্টস পরছেন অনেক পুরুষ কর্মী, যা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার জন্য ‘কোকুশোবি’ সতর্কতা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের তাজিমি, গুজো ও তয়োদা শহরে তাপমাত্রা সেই সীমা অতিক্রম করেছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে আগামী সপ্তাহেও ।
এর আগে জাপানে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনকে ‘মোসোবি’ বা ‘চরম গরম দিন’ বলা হতো। তবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য নতুন ‘কোকুশোবি’ পরিভাষা চালু করা হয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে।
কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশের ৯১৪টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের প্রায় ৩০০টিতে ‘মোসোবি’ রেকর্ড করা হয়েছে।
তাপপ্রবাহের কারণে ৪০টির বেশি প্রশাসনিক এলাকায় হিটস্ট্রোক সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জনগণকে পর্যাপ্ত পানি পান, লবণগ্রহণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্কদের শীতল পরিবেশে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনএইচকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার শুধু টোকিওতেই ৩ থেকে ১০৩ বছর বয়সী ২৮৭ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ৬ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে এক সপ্তাহে গরমে সাতজনের মৃত্যু এবং সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
এদিকে রেকর্ড গরমের প্রভাব পড়েছে অফিস সংস্কৃতিতেও। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের ‘টোকিও কুল বিজ’ কর্মসূচির আওতায় অনেক পুরুষ কর্মী এখন সুট-টাইয়ের বদলে টি-শার্ট, স্নিকার্স ও শর্টস পরে অফিস করছেন। তবে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ‘লেগ হেয়ার হ্যারাসমেন্ট’ বিতর্ক। অনেক নারী কর্মীর অভিযোগ, সহকর্মীদের খোলা পায়ের লোম দেখতে বাধ্য হওয়াও অস্বস্তিকর।
গরিলা ক্লিনিকের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ অফিসে শর্টস পরার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। বিরোধিতাকারীদের বড় অংশের আপত্তি শরীর ও পায়ের লোম নিয়ে। ক্লিনিকটির পরিচালক আকিফুমি ফুনাতসু জানালেন, এ কারণে অনেক পুরুষ এখন লেজার হেয়ার রিমুভালের পথ বেছে নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ও তীব্র হচ্ছে। আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে জাপানে ঘাম দ্রুত শুকায় না, ফলে শরীর ঠান্ডা হতেও বেশি সময় লাগে। তাই বর্ষাকাল থেকেই তীব্র গরমের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।





