দক্ষিণ কোরিয়ায় ইক্যুইটি ফান্ডে তরুণদের অনাগ্রহ

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ কোরিয়ার উদীয়মান খাতগুলোতে অর্থায়নের লক্ষ্যে চালু করা ৬০০ বিলিয়ন ওনের (প্রায় ৪২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) রাষ্ট্রীয় সমর্থিত 'ন্যাশনাল গ্রোথ ফান্ড'-এর প্রথম ধাপে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভূতপূর্ব সাড়া মিললেও এতে ২০ ও ৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো কম। প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা কিম সাং-হুনের চাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিশন (এফএসসি) সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) নিশ্চিত করেছে যে, গত ২২ মে চালু হওয়া ফান্ডের প্রথম ধাপের পুরো অংশ মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় এবং মোট ৩০,০৩৮ জন বিনিয়োগকারী এতে আবেদন করেন।
তবে এতে বিনিয়োগকারীদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৫০ এর কোঠায় থাকা বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ আবেদনকারী হিসেবে মোট তহবিলের একটি সিংহভাগ দখল করেছেন। ৫০-এর কোঠার ১০,১৭৩ জন বিনিয়োগকারী সংগৃহীত অর্থের মোট ২৩১.৬ বিলিয়ন ওন যোগান দিয়েছেন, যা মোট গ্রাহকের ৩৩.৯ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগকৃত অর্থের ৩৮.৭ শতাংশ। বিপরীতে ২০ ও ৩০ বছর বয়সী তরুণ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল যৌথভাবে মাত্র ৫,৮৫২ জন, যাদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৮০.২ বিলিয়ন ওন। তরুণদের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বয়সভিত্তিক গোষ্ঠী মিলিয়ে মোট বিনিয়োগকারীর মাত্র ১৯.৫ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগের মাত্র ১৩.৪ শতাংশ তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, ৪০-এর কোঠার ৯,৩৫৭ জন বিনিয়োগকারী ১৭০.৬ বিলিয়ন ওন জমা দিয়েছেন এবং ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪,৫৮৮ জন প্রবীণ বিনিয়োগকারী সবচেয়ে বেশি হারে মাথাপিছু বিনিয়োগ করেছেন, যা ব্যাংকের মাধ্যমে গড়ে ২৩.৩৬ মিলিয়ন ওন এবং সিকিউরিটিজ ফার্মের মাধ্যমে গড়ে ২৭.৮ মিলিয়ন ওন পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এই রাষ্ট্রীয় ফান্ডটি মূলত প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং-এর মূল অর্থনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ১৫০ ট্রিলিয়ন ওনের 'কোরিয়া ন্যাশনাল গ্রোথ ফান্ড' কর্মসূচির একটি অংশ, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, রোবোটিক্স এবং রিচার্জেবল ব্যাটারির মতো উন্নত প্রযুক্তি খাতগুলোকে বিকশিত করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। রাষ্ট্র সমর্থিত বিশাল অঙ্কের এই ইক্যুইটি ফান্ডে তরুণদের কম অংশগ্রহণের পেছনে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের কর্তাব্যক্তিরা মূলত তাঁদের সীমিত আর্থিক সংস্থান ও সঞ্চয়ের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
পাশাপাশি এই ফান্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করায় এবং সময়ের আগে টাকা তোলার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বা জরিমানা থাকায়, যে তরুণদের স্বল্পমেয়াদে বা জরুরি প্রয়োজনে মূলধনের সহজ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে, তাঁদের জন্য এই মেয়াদী শর্তটি একটি বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, মে মাসের শেষের দিকে এই ফান্ডটি চালু হওয়ার সময় কোরিয়ান শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কসপি বেশ শক্তিশালী গতিতে ওপরের দিকে উঠছিল এবং গত ১৮ জুন প্রথমবারের মতো সূচকটি ৯,০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করায় তরুণ বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ রাষ্ট্রীয় মেয়াদী ফান্ডের বদলে সরাসরি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকে পড়েছিলেন।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং দ্বিতীয় ধাপে তরুণদের আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কোরিয়ান সরকার ও এফএসসি বিশেষ কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দফায় আবারও ৬০০ বিলিয়ন ওনের নতুন ফান্ড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির, যেখানে নিম্ন আয়ের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ প্রথম ধাপের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এফএসচির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অংশ নেওয়া তরুণ বিনিয়োগকারীদের ৬০ শতাংশের বেশিই নিম্ন আয়ের ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে এফএসচির সচিব জেনারেল শিন জিন-চাং জানান যে, নিম্ন আয়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য কোটা বা বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার ফলে পরবর্তী দফায় আরও বিপুল সংখ্যক তরুণ বিনিয়োগকারী সহজেই রাষ্ট্রীয় এই উন্নয়নমূলক ফান্ডটিতে অংশ নিতে উৎসাহিত হবেন।




