বুনোফুল, পাহাড়ি তৃণভূমি ও বন্যপ্রাণীর টানে প্রকৃতিপ্রেমীদের নতুন গন্তব্য
এভারেস্টের বাইরে নতুন আকর্ষণ ধোরপাটন

সংগৃহীত ছবি
নেপাল বললেই পর্যটকদের চোখে প্রথমে ভেসে ওঠে এভারেস্ট, পোখারা কিংবা চিতওয়ানের ছবি। তবে পরিচিত এসব গন্তব্যের বাইরে ধীরে ধীরে পর্যটকদের নজর কাড়ছে পশ্চিম নেপালের বাগলুং জেলার ধোরপাটন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বুনোফুলে রঙিন পাহাড়ি উপত্যকা, সবুজ তৃণভূমি ও মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
বর্ষায় ধোরপাটনের প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ উপত্যকা নানা প্রজাতির বুনোফুলে ঢেকে যায়। সবুজ পাহাড়ের মাঝে লাল, সাদা ও হলুদ ফুলের বিস্তৃতি এই অঞ্চলকে অন্য সময়ের তুলনায় আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃতির এই মৌসুমি পরিবর্তন ধোরপাটনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ধোরপাটনের পর্যটন সম্ভাবনার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে Dhorpatan Hunting Reserve। এটি নেপালের একমাত্র hunting reserve এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি wildlife habitat। সংরক্ষিত এই এলাকায় নীল ভেড়া, হিমালয়ান তাহর, ঘোরাল, সেরো, কালো ভালুক ও চিতাবাঘের মতো বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে। পাখিপ্রেমীদের জন্যও এলাকাটি আকর্ষণীয়; এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মেলে।
প্রকৃতির পাশাপাশি ধোরপাটনের রয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। ধোর বারাহী মন্দিরসহ আশপাশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। ট্রেকিং, ফটোগ্রাফি, পাখি পর্যবেক্ষণ ও বন্যপ্রাণী দেখার জন্যও ধোরপাটনকে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পর্যটকের আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। ছোট হোটেল, হোমস্টে, পরিবহন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির মাধ্যমে বাসিন্দাদের আয় করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তরুণদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে পর্যটনের প্রসারের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও সামনে এসেছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়দের মতে, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ধোরপাটনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, ধোরপাটনের সবচেয়ে বড় শক্তি এর অপরিকল্পিত সৌন্দর্য নয়, বরং প্রকৃতির স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। তাই অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে ধোরপাটন নেপালের পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারে।
এভারেস্ট বা পোখারার মতো বহুল পরিচিত গন্তব্যের বাইরে যারা অপেক্ষাকৃত শান্ত, প্রাকৃতিক ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের কাছে ধোরপাটন ধীরে ধীরে নতুন বিকল্প হয়ে উঠছে। বর্ষার বুনোফুল আর পাহাড়ি প্রকৃতির এই সমন্বয়ই এখন ধোরপাটনের পর্যটন পরিচয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।




