আবার কেন রাজপথে নেপালের জেন-জি

সংগৃহীত ছবি
বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর যুবকদের ক্রমবর্ধমান হতাশা নিয়ে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপাল। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর রাস্তায় নেমে এসেছেন আন্দোলনকারীরা। গত তিন দিনে কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ তিন তরুণ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। আরেকজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, সরকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান, আয় বাড়ানো কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগই নেয়নি।
‘জেন-জি নেপাল’ নামের এক যুব সংগঠন বলছে, বালেন্দ্র শাহ সরকার জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক বাজেট ও সরকারি নীতিতে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান কিংবা আর্থিক নিরাপত্তার কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এদিকে বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসও প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলছে, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। নেপালে যুব বেকারত্বের সমস্যা দীর্ঘদিনের। সরকারের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভ কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নেপালের প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোকে পেছনে ফেলে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এ বছরের মার্চের প্রথমে সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করে। এরপর ২৭ মার্চ তিনি দেশটির ৪৭তম এবং সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথগ্রহণ করেন। এর আগে তিনি কাঠমান্ডু মহানগরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালি তরুণরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কাঠমান্ডুর কেন্দ্র মাইতিঘর মন্ডলায় জড়ো হন এবং সংসদ ভবন নববানেশ্বরের দিকে একটি বড় মিছিল নিয়ে প্রতিবাদযাত্রা করেন। দেশের প্রধান প্রধান শহর যেমন ইটহরি, পোখরা, নেপালগঞ্জ ইত্যাদিতেও একই রকম প্রতিবাদ হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর নেপাল সরকার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ করার পর এই আন্দোলন হয়।
তরুণদের এই বিক্ষোভের মুখে ৯ সেপ্টেম্বর নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুশীলা কার্কি।




