অনুমোদনের আগেই প্রকল্পের অর্ধেক টাকা খরচ
- অনুমোদনের বিপক্ষে পরিকল্পনা কমিশন

সংগৃহীত ছবি
বিদেশি অনুদানের টাকা এনে খেয়ালখুশিমতো খরচ করার অভিযোগ উঠেছে জার্মান সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেডের বিরুদ্ধে। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই ৬১ কোটি টাকার অর্ধেক এর মধ্যেই খরচ করে ফেলেছে সংস্থাটি। বাকি অর্ধেকের মধ্যেও বেশিরভাগই রয়েছে পরামর্শক, প্রশিক্ষণসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়। সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে নামমাত্র। এসব বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানত না সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এখন অনুমোদনের জন্য এলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। আগের খরচের দায় নেবে না জানিয়ে পরিকল্পনা ও আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘স্ট্রেনদেনিং আরবান ইন্টিগ্রেশন ক্যাপাসিটিজ অব ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড পারসনস অ্যান্ড সাপোর্টিং হোস্ট কমিউনিটিজ’ শীর্ষক প্রকল্পে এমন ঘটনা ঘটেছে।
গত ৫ জুলাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি নিয়ে মূল্যায়ন কমিটির সভা। সেখানে পরিকল্পনা কমিশনই নয়, অর্থ বিভাগসহ প্রতিনিধিরা অনুমোদনের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
পিইসি সভায় অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬-এর জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সম্পূর্ণ জার্মান সরকারের বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট নতুন এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি প্রকল্পটির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশের চারটি শহর এলাকা (রাজশাহী, খুলনা, সিরাজগঞ্জ ও সাতক্ষীরা অঞ্চল) এর ঝুঁকিপূর্ণ নগর জনগোষ্ঠী বিশেষত নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জলবায়ুর ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জীবিকা, কর্মসংস্থান তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। ৩০০ বেনিফিশিয়ারি নির্বাচিত করে তাদের সক্ষম করে গড়ে তোলার কার্যক্রম এ প্রকল্পের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। দাতা সংস্থা নিজেরাই প্রকল্প এলাকা নির্বাচন করেছে। প্রাক্কলিত ব্যয়ের বৃহৎ অংশ পরামর্শক, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আজম আগামীর সময়কে বলেছেন, এটি কোনোভাবেই ঠিক নয়। এমননিতেই এ রকম কারিগরি সহায়তায় আমাদের মতো দেশে দরকার নেই। এরপরও যদি নিতে হয়, তাহলে অবশ্যই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হবে। এখানে তারা অনুদানের টাকা এনে কীভাবে, কোথায় খরচ করবে আর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানবে না— এটি হতে পারে না। এখানে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের একটি বৃহৎ অংশ এরই মধ্যে জিআইজেড খরচ করেছে। প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৪৩ শতাংশ। মূলত ১৯৭৮ সালে ইআরডির সঙ্গে একটি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্টের কারণে জার্মান প্রতিনিধিরা টিএপিপি (টেকনিক্যাল প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদনের আগেই ২০২৩ সালে বাস্তবায়ন শুরু করে। প্রকল্পের অর্থের একটি বৃহৎ অংশ কনসালট্যান্সির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং এক্সপোজার ভিজিটের মাধ্যমে ব্যয় করার প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সভার সভাপতি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান বলেছেন, প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি ব্যয় পরামর্শক খাতে করার যৌক্তিকতা সম্পর্কে তিনি জানতে চান। এ ছাড়া টিএপিপি অনুমোদনের আগেই কাজ শুরু হওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে বলে জানালেন তিনি। কার্যক্রম শুরুর পর প্রকল্প মূল্যায়ন সভা আয়োজনের আইনগত ও যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে কি না— সে বিষয়েও তিনি জানতে চান।




