বালু উত্তোলনে বাঁধ ভাঙার জেরে ফেসবুকে দোষারোপ, দুই গ্রামে সংঘর্ষ

ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জে খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে আশপাশের ২৫ গ্রাম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও মন্তব্যে একে অন্যকে দোষারোপের জেরে সংঘর্ষ হয়েছে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার তেতৈয়া ও ধুলিয়াখাল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ঘটে এ সংঘর্ষের ঘটনা। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে এক রাতেই প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে দায়ী করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ধুলিয়াখাল গ্রামের প্রবাসী তারেক আহমেদ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বালু উত্তোলনের জন্য দায়ী করেন তেতৈয়া গ্রামের দুই ব্যক্তিকে। এর জবাবে তেতৈয়া গ্রামের ইব্রাহিম মিয়া মন্তব্য করে ধুলিয়াখাল গ্রামের লোকজনকে দায়ী করেন। এ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে সোমবার রাতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।
গোপায়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ফেসবুকের স্ট্যাটাস ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। রাতে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা চলছিল।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।




