জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি
এমসিকিউর পূর্ণ সময় পাননি কুমিল্লা বোর্ডের শতাধিক পরীক্ষার্থী

নৌকা, ভ্যান ও রিকশার মাধ্যমে কেন্দ্রে পৌঁছান পরীক্ষার্থীরা। ছবি: আগামীর সময়
ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে বিপাকে পড়েছেন কুমিল্লা বোর্ডের কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের শতাধিক পরীক্ষার্থী। সোমবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশে নির্ধারিত পূর্ণ সময় পাননি তারা। বোর্ড কর্তৃপক্ষ ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা শুধু লিখিত অংশে প্রয়োগ হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী এমসিকিউর শতভাগ উত্তর দিতে পারেননি বলেও রয়েছে অভিযোগ।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে সকাল ১০টার পর কেন্দ্রে প্রবেশ করেন অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু নির্ধারিত সময়েই এমসিকিউ প্রশ্নপত্র, ওএমআর উত্তরপত্র ও সৃজনশীল অংশের খাতা বিতরণ করা হয়। ফলে নাম, রোল, নিবন্ধন নম্বর, সেট কোড এবং প্রয়োজনীয় বৃত্ত পূরণ করতে গিয়ে অনেকেই এমসিকিউ অংশে মাত্র ১৫ মিনিট, কেউ কেউ তারও কম সময় পান। তাদের দাবি, বোর্ড অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ঘোষণা দিলেও এমসিকিউ অংশে কোনো অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তাই প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণের পর অবশিষ্ট অল্প সময়ে অনেক পরীক্ষার্থী অর্ধেক প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেননি।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এদিন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী। ভারী বর্ষণে কলেজসংলগ্ন সড়ক ও পুরো ক্যাম্পাস পানিতে তলিয়ে যায়। নিচতলার প্রায় সব কক্ষেও ঢুকে পড়ে পানি। এ সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুকে নৌকা, ভ্যান ও রিকশার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহায়তা করতে দেখা যায়।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা শুনে সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে ছিলেন বোর্ডের দুই কর্মকর্তা। লিখিত অংশে আধা ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টায়ই এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ ও শেষ করা হয়েছে। তবে যেহেতু অনেকে কেন্দ্রে দেরিতে প্রবেশ করেছে এবং এমসিকিউ অংশের জন্য সময় কম পেয়েছেন, তাই পৃথকভাবে কিছু সময় এমসিকিউতে বাড়িয়ে দিলে এমন বিতর্ক আর হতো না।’
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো নগরীর ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের ফটকে মাইকিং করে বিষয়টি জানানো হয় পরীক্ষার্থীদের।
ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘বোর্ডের দুই কর্মকর্তা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে গেছেন। অন্তত ৮০ জোড়া বেঞ্চ-টেবিল আনা হলে এখানে সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের সব পরীক্ষার্থীর অবশিষ্ট পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, ‘বোর্ডের অধীন ছয় জেলায় বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সব পরীক্ষার্থীর জন্য ৩০ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়।’ তার ভাষ্য, অনেক পরীক্ষার্থী বিলম্বে কেন্দ্রে প্রবেশ করায় তারা এমসিকিউ অংশে পর্যাপ্ত সময় পাননি। ‘বর্ধিত সময় শুধু লিখিত অংশে না দিয়ে এমসিকিউ অংশেও কিছুটা দেওয়া দরকার ছিল, যা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ করতে পারতেন।’
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কেন্দ্রটি স্থানান্তরের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার রাতের মধ্যেই এ বিষয়ে নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।




