অর্থ উপদেষ্টা
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়া জরুরি

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: সংগৃহীত
জটিল অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কারণে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময় আরও বাড়ানো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, সুষ্ঠু উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার জোরদারের জন্য কৌশলগত প্রয়োজন।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি লোক বাহাদুর থাপা। রাতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এসব তথ্য।
অধিবেশনে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি বিভিন্ন পর্যায়ে উত্তরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এসব দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও বৈশ্বিক অভিঘাতের কারণে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময় আরও তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ ও নেপাল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন ২০৩০ সালের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছি, তখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি উদ্বেগজনকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ।’
তার দাবি, ‘দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস, ডিজিটাল বৈষম্য এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের সীমিত সুযোগ আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অব্যাহতভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।’
বক্তব্যে এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বল্পসুদে ঋণসহ অনুকূল অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দেশগুলোর ঝুঁকির মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে সুরক্ষাবাদী প্রবণতা থেকে সরে এসে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করতে হবে।
প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরে সহযোগিতা বাড়িয়ে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ।




