ইরানে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা হামলার দাবি তেহরানেরও

ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের ছোঁড়া মিসাইল। ছবি: বিবিসি
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এদিকে ইরানও দাবি করেছে, একটি মার্কিন জাহাজ এবং কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো হয়েছে সর্বশেষ দফার হামলা। তাদের ভাষ্য, ‘এই হামলা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলবে ইরানি বাহিনীকে এবং দুর্বল করে দেবে হরমুজ প্রণালিতে নিরীহ বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজে তাদের হামলা চালানোর সক্ষমতা।’
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বন্দর আব্বাস শহর এবং কিশ দ্বীপে শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ। তবে এসব বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে এক বেতার অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলতে পারে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ। তিনি আরও বলেন, ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত ধ্বংস করে দেব আমরা। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন। এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না তারা।’
পিকঅ্যাক্স পর্বত নামে পরিচিত কুহে কোলাং গাজ লা ইরানের মধ্যাঞ্চলের জাগরোস পর্বতমালায় অবস্থিত একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত পারমাণবিক স্থাপনা। এটি পাহাড়ের ভেতরে নির্মিত।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, সোমবার রাত ও মঙ্গলবার ইরানের ওপর আরও জোরালো হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ছিল ইরানের জন্য একটি পরীক্ষা, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি তারা।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে দেশটির নৌবাহিনী দাবি করেছে, তারা একটি ‘শত্রু মার্কিন জাহাজকে’ লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেছে ক্রুজ মিসাইল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা থেকে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ শুরু করবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে হামলার ঘটনা।
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম, জ্বালানি ট্যাংক, একটি ওয়াচটাওয়ার, গোলাবারুদের গুদাম এবং কমিউনিকেশন সিস্টেম।




