দ্বিতীয় অবস্থান নিয়ে শঙ্কা
- পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার কাছে

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কয়েকটি কারণে সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। দেশের ভেতরে গ্যাস সংকট, উচ্চ সুদহার ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পোশাকশিল্পে। পাশাপািশ বৈশ্বিকভাবে মার্কিন শুল্কনীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি, ভিয়েতনামের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি এবং পণ্যের দরপতন বিরূপ প্রভাব ফেলছে রপ্তানিতে। উভয়সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প পিছিয়ে যাচ্ছে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার কাছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে কমেছে বৈশ্বিক বাজার-অংশীদারত্ব। বিপরীতে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের ওপর।
তাদের হিসাবমতে, চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ভিয়েতনামের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস রপ্তানি ২২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে মোট রপ্তানিতে এগিয়ে ভিয়েতনাম।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, ভিয়েতনামের বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরই বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে অতিক্রম করতে পারে। কারণ, গত বছর ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। তিনি আরও বলছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক বাজারে চীনের অংশীদারত্ব কমার বড় সুবিধাভোগী ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০২৫ সালে সে চিত্র বদলে গেছে। পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ চীনের রপ্তানি ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ কমলেও এর সুফল বাংলাদেশ নিতে পারেনি। বরং কম্বোডিয়া ১৬ দশমিক ৮৮ এবং ভিয়েতনাম ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের দখলে নিয়েছে নতুন বাজারের বড় অংশ।
জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘মার্কিন শুল্কনীতি, ইউরোপের বাজারে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করছে।’
ডব্লিউটিওর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। অথচ ২০২৪ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হারে এগিয়েছিল। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বড় ধরনের।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ৬ দশমিক ৬৮ থেকে বেড়ে ৭ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৫ সালে তা আবার কমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ, এক বছরে বাজার অংশীদারত্ব কমেছে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট, যা আগের বছরের অর্জনের বড় অংশই হারিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বিপরীতে ২০২৫ সালে ভিয়েতনামের ৩৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে।




