আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ব্যাংকক

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককসহ বিভিন্ন এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে দেশটির পুলিশ। সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বের ১৯০টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের আগমনকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।
১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ড রয়্যাল পুলিশ ও ব্যাংকক মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্মেলনস্থল কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার (কিউএসএনসিসি), অভ্যর্থনাস্থল ওয়ান ব্যাংকক ফোরাম এবং ভিআইপি অতিথিদের জন্য নির্ধারিত ২২টি বিলাসবহুল হোটেলকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
কে-নাইন ও অ্যান্টি-বোম্ব স্কোয়াড
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ও বিশেষ প্রশিক্ষিত কে-নাইন (কে-৯) স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। সম্মেলনস্থল, পার্কিং এলাকা, আশপাশের পার্ক ও ভিআইপি হোটেলগুলোতে সন্দেহজনক বস্তু, বিস্ফোরক ও অস্ত্র শনাক্তে কাজ করছে এসব দল। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ড্রোন নজরদারি
পর্যটক পুলিশ সম্মেলনস্থল ও সংলগ্ন বেনজাকিত্তি পার্ক এলাকায় বিশেষ টহল এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা
সম্মেলন ঘিরে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১০ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সম্মেলনের প্রধান ভেন্যু ও ভিআইপি হোটেলগুলোর ১০০ মিটারের মধ্যে জনসভা, মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্মেলন চলাকালে ব্যাংককের কেন্দ্রীয় এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ভিআইপি বহরের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। এ জন্য ট্রাফিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ট্রাফিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকক পুলিশ রাচাদাফিসেক রোড, আসোক-সুকুমভিত এলাকা, রামা ৪ রোড এবং দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশের সংযোগ সড়কগুলোতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব সড়ক ব্যবহার না করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে যাত্রীদের গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিটিএস ও এমআরটি বৈদ্যুতিক রেলসেবা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের ঘরে বসে কাজের ব্যবস্থা এবং ১৬ অক্টোবর বিশেষ ছুটি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসন। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে জরুরি পুলিশ সেবা ১৯১, পর্যটক পুলিশ ১১৫৫ এবং ট্রাফিকসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ১১৯৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংককের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখাই এ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।



