জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, আহত অন্তত ২৪

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জাপানের মধ্যাঞ্চলে রবিবার ভোরে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন, জানালার কাচ ভেঙে গেছে এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে শিজুওকা প্রিফেকচারে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ ঘটনায় সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে কেউ নিহত হননি। তবে বিভিন্ন দোকানের জানালার কাচ ভেঙে গেছে, তাক থেকে জিনিসপত্র পড়ে গেছে এবং দেশের কয়েকটি এলাকায় পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
আইচি অঞ্চলের এক জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের কাছে ১৬ জন আহত হওয়ার খবর এসেছে। তাদের বেশির ভাগের আঘাতই সামান্য।
প্রতিবেশী শিজুওকা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত তিন নারী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নব্বইয়ের বেশি বয়সী এক নারীও রয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে তার কাঁধে আঘাত লাগে।
স্থানীয় সংবাদপত্র চুনিচি শিম্বুন ও টোকাই টেলিভিশন পৃথকভাবে জানিয়েছে, দুই অঞ্চলে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছে।
আইচি অঞ্চলের তোয়োহাশি শহরে ভূমিকম্পের পর একটি গাড়ির শোরুমের জানালার কাচ ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
একই অঞ্চলের তোয়োটা শহরের একটি বড় বইয়ের দোকান জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় তাক থেকে বই ও অন্যান্য পণ্য পড়ে গেছে।
ভূমিকম্পের কারণে রবিবার সকালে আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলেও সাময়িক বিলম্ব ও স্থগিতাদেশ দিতে হয়। এর মধ্যে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনও ছিল।
ওসাকা পর্যন্ত ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে এক বিদেশি বাসিন্দা ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আতঙ্কিত হয়ে দোতলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্যের জন্য ওসাকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
এদিকে, রবিবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে কুমামোতো অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থা।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গত জুলাইয়ে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই ভূমিকম্পে ৩৮ জন নিহত হয়, বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটিতে প্রতি বছর শত শত ভূমিকম্প হয়।
২০১১ সালে সমুদ্রের তলদেশে আঘাত হানা ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো জাপানকে তাড়া করে ফেরে। ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়। এতে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও ধ্বংস হয়ে যায়।
সূত্র: জাপান টাইমস




