নেপালে নিখোঁজ তিন পর্তুগিজের একজন উদ্ধার
- এখনো সন্ধান নেই দুজনের

নেপাল-তিব্বতের বন্যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যার পর নিখোঁজ হওয়া তিন পর্তুগিজ নাগরিকের একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই পর্তুগিজ নাগরিক। পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেপালের কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী একজন পর্তুগিজ নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অপর দুই নাগরিকের সন্ধানে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ধারাবাহিক কয়েকটি প্রাকৃতিক ঘটনার পর এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। একটি হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও গলিত পানি পাহাড়ি উপত্যকাগুলোর দিকে নেমে আসে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং চরম আবহাওয়ার তীব্রতা বাড়ায় এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন নেপালের তিমুরে, রাসুওয়াগাধি ও সিয়াব্রুবেশি শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে প্রবল পানির স্রোত সীমান্ত অতিক্রম করে চীনের ভূখণ্ডেও পৌঁছে যায়।
সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, বন্যার তোড়ে ছোট ছোট গ্রাম, সেতু, জলাধার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নেপাল সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করতে সামরিক বাহিনী ও বেসরকারি হেলিকপ্টার মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল সরকার।





