অনিশ্চিত উৎসবের বাজার
বন্যার এক ধাক্কায় মুছে গেল নেপাল-চীনের প্রধান বাণিজ্যপথ

ছবি: রয়টার্স
নেপালের সঙ্গে চীনের স্থলবাণিজ্যের প্রধান সড়ক রসুয়া-কেরুং এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপ। ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ভোটেকোশি করিডর ধরে নেমে আসা স্রোত কয়েক মিনিটের মধ্যে রসুয়াগাধি সীমান্তচৌকি, চীন-নেপাল মৈত্রী সেতু এবং সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র তিমুরে তছনছ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন চীনা অর্থায়নের শুকনো বন্দরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র - অনলাইন খবর (নেপাল)
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া রসুয়া-কেরুং পথটি ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর নেপালের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাতোপানি পথ দীর্ঘদিন অচল থাকায় এটিই হয়ে ওঠে চীনের সঙ্গে নেপালের প্রধান স্থলবাণিজ্যপথ। পোশাক, বৈদ্যুতিক গাড়ি, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ নানা ভোগ্যপণ্য এই পথ দিয়ে কাঠমান্ডুতে আসত। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি পণ্যবাহী যান চলাচল করত। এবারের বিপর্যয় নেপালের আসন্ন দশাইন ও তিহার উৎসবের বাজার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আগস্ট-সেপ্টেম্বর উত্তর সীমান্তে ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে পোশাক, জুতা ও বৈদ্যুতিক পণ্যের চাহিদা বাড়ে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্যের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে। বন্যায় প্রায় ১,০০০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি ও যন্ত্রাংশবাহী কনটেইনার ভেসে গেছে বলে ধারণা করছে সাইমেক্স। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যমুনা শ্রেষ্ঠার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত আমদানি করা প্রায় ১১ হাজার বিওয়াইডির মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই রসুয়া দিয়ে নেপালে ঢুকেছে। তাদের কয়েকজন কাস্টমসকর্মীও নিখোঁজ।
কাস্টমস বিভাগের মহাপরিচালক যম লাল ভুসালের জানিয়েছেন, রসুওয়াগাধিতে তাদের ১৫ জন কর্মকর্তা নিখোঁজ। উদ্ধারকাজই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। ২৭ আগস্ট বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলেও তাতোপানি ও কোরালা দুটিরই রয়েছে বড় সীমাবদ্ধতা। কেরুং থেকে তাতোপানি হয়ে পণ্য পাঠালে পথ প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার বেড়ে যায়। আবার তাতোপানি বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ। কোরালায় নেই পর্যাপ্ত শুল্ক অবকাঠামো, ভারী যান চলাচলের সুবিধাও সীমিত। সেখানে ৪,৬৫০ মিটার উচ্চতায় শীতকালে তুষারপাতও বড় সমস্যা।
গত অর্থবছরে চীন থেকে নেপালের আমদানি ছিল ৪২৫.২৪ বিলিয়ন রুপি, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪.৬৬ শতাংশ বেশি। বিপরীতে চীনে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৮৯ বিলিয়ন রুপিতে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৪২৩.৩৫ বিলিয়ন রুপি। দক্ষিণ এশিয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক পরশ খারেল মনে করেন, জরুরি পরিস্থিতিতে নেপাল ও চীনকে দ্রুত বিকল্প পথে পণ্য সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ সমুদ্রপথে ভারতের বন্দর ব্যবহার করলে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ে।







