গাজা থেকে বাবাকে ফেরাতে মরিয়া ফিলিপাইনের সুন্দরী
- বহু বছর খোঁজার পর বাবাকে ফিরে পেয়েছিলেন গাজিনি গানাদোস। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হতেই ফের বিচ্ছিন্ন হয়ে যান দু’জন। এবার গাজা থেকে বাবা ও তার পরিবারকে নিরাপদে বের করে আনতে লড়ছেন ফিলিপাইনের এই সুন্দরী।

ফিলিস্তিন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পর কয়েকটি সংস্থা তার সঙ্গে কাজ করতেও অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন গাজিনি।
বাবাকে খুঁজতে কেটে গিয়েছিল জীবনের দীর্ঘ সময়। ২০১৯ সালে শেষ পর্যন্ত সেই বাবার সন্ধান পান গাজিনি গানাদোস। কিন্তু কয়েকবছরের মধ্যেই যুদ্ধ আবার তাদের আলাদা করে দেয়। এখন গাজায় থাকা বাবাকে নিরাপদে ফিলিপাইনে ফিরিয়ে আনাই তাঁর সবচেয়ে বড় লড়াই। প্রয়োজনে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলেও জানিয়েছেন মিস ইউনিভার্স ফিলিপিন্স ২০১৯ গাজিনি।
১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গাজিনির এই লড়াইয়ের কথা। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে চোখে দেখেননি তিনি। ফিলিপিন্সের সেবুতে মায়ের কাছে বড় হয়েছেন। ২০১৯ সালে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বাবাকে খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছার কথা বলেছিলেন গাজিনি। সেই অনুষ্ঠান দেখেই তার ফিলিস্তিনি বাবা যোগাযোগ করেন।
এরপর প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পন্ন করে তার বাবা জর্ডান থেকে ফিলিপিন্সের সেবু শহরে যান। সেখানেই প্রথমবার বাবার সঙ্গে দেখা হয় গাজিনির। পরে দু’জনে ম্যানিলাতেও যান। বাবার কাছ থেকে জানতে পারেন, কীভাবে তার সঙ্গে গাজিনির মায়ের পরিচয় হয়েছিল। বহু বছর পর পাওয়া সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। গাজিনির চার সৎ ভাইবোনও রয়েছে গাজায়।
কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে পরিস্থিতি বদলে যায়। গাজায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে শুরু করে। গাজিনির বাবা পেশায় দন্ত চিকিৎসক। তার চিকিৎসাকেন্দ্রও ধ্বংস হয়ে যায় বলে গাজিনি জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের পরিষেবা প্রায় অচল হয়ে পড়ায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও কঠিন হয়ে ওঠে।
আরব নিউজকে গাজিনি বলেন, তাদের পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, জীবিকা ধ্বংস হয়েছে, প্রতিদিন তাদের স্বপ্ন ও আশা ভেঙে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাবা এবং তার পরিবারের সদস্যদের গাজা থেকে নিরাপদে বের করে আনতে ফিলিপাইনের সরকারের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের চেষ্টা করছেন তিনি। এ জন্য ফিলিপিন্স সরকার, মিশর ও ফিলিস্তিনের দূতাবাসের অনুমোদন প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
তবে এই লড়াই শুধু প্রশাসনিক জটিলতায় থেমে নেই। ফিলিস্তিন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পর কয়েকটি সংস্থা তার সঙ্গে কাজ করতেও অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন গাজিনি। তবু অবস্থান বদলাননি তিনি। বরং তার কথায়, আগে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে যথেষ্ট জানতেন না। পরে নিজে পড়াশোনা ও অনুসন্ধান করে পরিস্থিতি বুঝেছেন এবং এখন মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন। বাবাকে আবার সামনে বসিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন গাজিনি। তাঁর আশা, পরেরবার যখন তিনি সাক্ষাৎকার দেবেন, তখন তাঁর বাবা তাঁর পাশেই থাকবেন।



