থাইল্যান্ডে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ৫ সেনা নিহত

ছবি: রয়টার্স
থাইল্যান্ডের বিদ্রোহপ্রবণ দক্ষিণাঞ্চলে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় পাঁচজন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
নারাথিওয়াত প্রদেশের বুকেটা সামি নিরাপত্তা চৌকিতে বুধবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সেনাবাহিনীর ভাষ্য, টাস্ক ফোর্স রেঞ্জার রেজিমেন্ট–৪৫-এর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করার সময় হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পাইপ বোমা নিক্ষেপ করে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেনাবাহিনী বলেছে, ‘তাদের দায়িত্ব পালন ও আত্মত্যাগ সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি এটি। একই সঙ্গে আবারও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশটির দক্ষিণ সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোয়।
নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার একদিন আগে নারাথিওয়াতের অন্য একটি এলাকায় সাবেক তানইয়ং পুলিশ স্টেশনের বাইরে একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভবনটি।
মঙ্গলবারের ওই বিস্ফোরণের পর মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়া দুই সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন জানিয়েছে, চলতি বছরে দক্ষিণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এটিই প্রথম গাড়িবোমা হামলার ঘটনা।
নারাথিওয়াত, পাত্তানি ও ইয়ালা প্রদেশে প্রধানত মালয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। ২০০৪ সাল থেকে এ অঞ্চলগুলো সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। এ সংঘাতে বেসামরিক মানুষ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং নিহত হয়েছেন যোদ্ধাসহ সাত হাজারের বেশি মানুষ।
সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পর গত জুনে থাই সরকার ও প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের (বিআরএন) মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে স্বায়ত্তশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মতো বিষয়গুলোতে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।




