অসুস্থতায় ছুটি নিলে আপনার অপরাধবোধ হয়? জানুন কারণ

একটি আউটসোর্সিং সেন্টারে নিজ নিজ কর্মস্থলে কাজ করছেন কর্মীরা। ছবি: রয়টার্স।
অসুস্থবোধ করছেন, কিন্তু অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। তাই ছুটি না নিয়ে কাজে চলে গেলেন বা বাসা থেকে কাজ শুরু করলেন। এমনটা অনেকেই করেন। যুক্তরাজ্যে এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেকের মতো মানুষ অসুস্থতা সত্ত্বেও ছুটি না নিয়ে কাজ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসুস্থ অবস্থায়ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার এই প্রবণতাকে বলা হয় প্রেজেন্টিজম। এই ধরনের মানসিকতার পেছনে ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তাভাবনার পাশাপাশি বড় ভূমিকা রাখে কর্মস্থলের পরিবেশ।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, তরুণ কর্মীরা তুলনামূলকভাবে কম অসুস্থতার ছুটি নেন। গত বছর ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মীরা গড়ে ২ দশমিক ৪ দিন ছুটি নিয়েছেন, যেখানে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল ৬ দশমিক ২ দিন।
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক স্যার ক্যারি কুপারের মতে, চাকরি হারানোর ভয় বা অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার হার কম থাকায় তরুণরা ছুটি নিতে দ্বিধা বোধ করেন।
মনোবিজ্ঞানী অড্রে ট্যাং জানিয়েছেন, যাদের কাছে কাজ কেবল জীবিকা নয় বরং ব্যক্তিত্বের অংশ, তারা কাজে অনুপস্থিত থাকাকে নিজের অস্তিত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো মনে করেন। এ ছাড়া শিক্ষকতা, চিকিৎসা ও নার্সিংয়ের মতো সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের দুর্বল ভেবে নেতিবাচক ধারণা তৈরির ভয়ে সহজে ছুটি নিতে চান না।
ব্যক্তিগত মানসিকতার বাইরে কর্মস্থলের সংস্কৃতিও বড় প্রভাব ফেলে। মনোবিজ্ঞানী তারা কুইন-সিরিলো উল্লেখ করেছেন, কোনো দলে কর্মী কম থাকলে একজনের অনুপস্থিতিতে অন্যদের ওপর চাপ বাড়বে— এমন চিন্তা থেকে অপরাধবোধ তৈরি হয়।
‘বিশেষ করে সুস্থতার চেয়ে উৎপাদনশীলতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোয় অসুস্থ অবস্থাতেও কাজ করাকে ভালো কর্মীর লক্ষণ হিসেবে দেখার অপসংস্কৃতি গড়ে ওঠে’, যোগ করেন সিরিলো।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সুস্থ কর্মপরিবেশে কর্মীরা তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারেন। সেখানে অসুস্থ হলে ছুটি নেওয়াকে দেখা হয় স্বাভাবিকভাবে।
অসুস্থ অবস্থায় কাজ করা উচিত কি না, সেটিও সবসময় সহজে বোঝা যায় না। অড্রে ট্যাংয়ের মতে, বমি বা ডায়রিয়া হলে উপসর্গ চলে যাওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টা এবং জ্বরের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বাসায় বিশ্রামে থাকা উচিত।
অড্রে ট্যাং বলেছেন, কাশি বা সর্দির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। করোনাভাইরাসের পর এ ধরনের অসুস্থতায় সম্ভব হলে বাড়ি থেকে কাজ করাকে সাধারণভাবে ভদ্রতা হিসেবে দেখা হয়।
সূত্র : বিবিসি





