পরামর্শ
চাকরি ছাড়ার আগে নিশ্চিত করুন ১০ বিষয়

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক বুশরা হুমায়রা এষা
দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ব্যাবসায় শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বুশরা হুমায়রা এষা
পেশাগতজীবনে নতুন সুযোগের সন্ধান, কিংবা ক্যারিয়ারের গতিপথ পরিবর্তন করা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে আবেগ বা সাময়িক ক্ষোভের বশে হুট করে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হতে পারে না। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়া এবং পরবর্তী ক্যারিয়ারের পথ সুগম রাখার জন্য পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বেশ কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন।
বিশেষ কোনো জরুরি কারণ বা ব্যক্তিগত পরিকল্পনা না থাকলে, নতুন চাকরির অফার লেটার হাতে পাওয়ার পরেই বর্তমান চাকরি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। যদি অন্য কোথাও যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা না থাকে, তবে অন্তত পরবর্তী ছয় মাস থেকে এক বছরের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত ইমার্জেন্সি ফান্ড জমা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পদত্যাগসংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়মাবলি রয়েছে। আপনার বর্তমান নিয়োগপত্র এবং কোম্পানির এইচআর পলিসি ভালোভাবে পড়ে নিন। সাধারণত ১৫ দিন থেকে শুরু করে ১-৩ মাসের নোটিস পিরিয়ডের বাধ্যবাধকতা থাকে। নোটিস না দিলে কোনো আর্থিক জরিমানা বা সুবিধা কর্তন হবে কি না, তা আগে থেকেই জেনে প্রস্তুত থাকুন।
চাকরি ছাড়ার পর প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির অর্থমূল্য কিংবা কোনো অনাদায়ী বোনাস পাবেন কি না, এবং তা কবে নাগাদ প্রক্রিয়াজাত করা হবে, এসব বিষয়ে মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে এর স্পষ্ট হিসাব নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি, কোম্পানির কাছে আপনার কোনো আর্থিক বকেয়া বা লোন থাকলে তা কীভাবে সমন্বয় করবেন, সেটিও নির্ধারণ করে নিন।
ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে নতুন চাকরির জন্য আগের বসের বা সহকর্মীদের রেফারেন্স খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পদত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরুর আগেই আপনার কাজের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন এমন দুয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন, যাতে প্রয়োজনে তারা আপনাকে ইতিবাচক রেফারেন্স দিতে রাজি থাকেন। এ ছাড়া এইচআর থেকে এক্সপেরিয়েন্স লেটার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
নিজে দায়িত্বশীল পেশাজীবী হিসেবে পরিচয় দিতে চাইলে সুষ্ঠুভাবে কাজের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক। নোটিস পিরিয়ডের মধ্যে আপনার কাজগুলো কে বা কারা পরিচালনা করবেন, তা ঠিক করে একটি বিস্তারিত হ্যান্ডওভার ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন। সব ফাইল, ক্লায়েন্ট তালিকা এবং প্রজেক্টের আপডেট পরিচ্ছন্নভাবে সাজিয়ে দিয়ে গেলে আপনার ওপর সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক ধারণা থাকবে।
অফিসের ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে আপনার কোনো ব্যক্তিগত ফাইল, ছবি বা নথিপত্র থাকলে তা সরিয়ে নিন। এ ছাড়া আপনার যেসব নিজস্ব ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ক বা প্রজেক্ট পরে পোর্টফোলিও হিসেবে কাজে লাগতে পারে, সেগুলো প্রতিষ্ঠান বা ক্লায়েন্টের গোপনীয়তা ভঙ্গ না করেই নিজ দায়িত্বে ব্যাকআপ নিয়ে রাখুন। পদত্যাগের পর অফিসিয়াল ইমেইল বা সিস্টেমে আপনার প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাবে।
বিভিন্ন দরকারি অনলাইন সেবা, ব্যাংক বা পেশাগত প্ল্যাটফর্মে (যেমন— লিংকডইন) অফিসিয়াল ইমেইল যুক্ত থাকলে, তা বদলে দ্রুত ব্যক্তিগত ইমেইল আইডি ও ফোন নাম্বার দিয়ে আপডেট করে ফেলুন। এ ছাড়া আপনার সহকর্মী, ক্লায়েন্ট ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজের ব্যক্তিগত ইমেইল ও ফোন নাম্বার শেয়ার করুন, যাতে সম্পর্কগুলো ভবিষ্যতেও টিকে থাকে।
চাকরিজীবী হিসেবে হয়তো আপনি কোম্পানির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবীমা, পরিবহন সুবিধা বা অন্যান্য ওয়েলফেয়ার বেনিফিট পাচ্ছিলেন। চাকরি ছাড়ার পর এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বিকল্প স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা করা বা নতুন প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধাগুলো কীভাবে মিলবে, তা আগে থেকেই নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
অফিস থেকে প্রাপ্ত ল্যাপটপ, আইডি কার্ড, সিম কার্ড, ডেস্কটপ, ভেহিক্যাল বা অন্য কোনো সরঞ্জাম থাকলে সেগুলো অক্ষত অবস্থায় জমা দেওয়ার জন্য তৈরি রাখুন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ছাড়পত্র নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় আপনার চূড়ান্ত পাওনা বা রিলিজ লেটার আটকে যেতে পারে।
যেকোনো কারণেই চাকরি ছাড়ুন না কেন, শেষ সময় পর্যন্ত ইতিবাচক ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখুন। পদত্যাগপত্রে বা বিদায়বেলায় কোম্পানি ও কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন এবং কটূক্তি বা নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, পেশাগত দুনিয়া খুবই ছোট, আজকের বস বা সহকর্মী আগামীতে আপনার নতুন কাজের সুযোগ নিয়ে আসতে পারেন।







