নিয়ন্ত্রণের বাইরে কঙ্গোর ইবোলা মহামারী, এক হাজার ছাড়াল মৃত্যু

ছবি: রয়টার্স
মধ্য আফ্রিকার দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ ভাইরাসে দেশটিতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩১ জনে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর মহাপরিচালক ড. জঁ কাসেয়া
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুধবার এ বিষয়ে নতুন তথ্য সম্বলিত একটি পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গত ১৫ মে থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গো ও পার্শ্ববর্তী উগান্ডায় মোট ২ হাজার ৪৭৩ জন ভাইরাসের নতুন বুন্দিবুগিও স্ট্রেনে আক্রান্ত হয়েছেন। এই প্রাদুর্ভাবের ফলে কঙ্গোতে ৯৯৯ জন এবং উগান্ডায় ২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তবে ঘানায় অনুষ্ঠিত একটি স্বাস্থ্য সম্মেলনে ড. জঁ কাসেয়া জানিয়েছেন, নিহতের আসল সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩১ জনে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ড. কাসেয়া বলেছেন, এরাও মানুষ, যারা মারা যাচ্ছে। তারা মারা যাচ্ছে কারণ আমাদের কাছে টিকা নেই, কোনো ওষুধ নেই এবং পর্যাপ্ত তহবিল নেই।
ইবোলা ভাইরাসের এই নতুন স্ট্রেনের জন্য বর্তমানে কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি বিদ্যমান নেই, যার ফলে এই সংক্রমণ এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা দ্রুততম বিস্তারে পরিণত হয়েছে।
এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় এক হাজার মৃত্যুর মাইলফলকে পৌঁছাতে প্রায় আট মাস সময় লেগেছিল, যেখানে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ৮০ শতাংশ নতুন সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি কীভাবে ছড়িয়েছে তার উৎস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা ইঙ্গিত দেয় কর্তৃপক্ষের নজরদারির চেয়েও অনেক বেশি গতিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে।
বর্তমানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ৮২ শতাংশ ব্যক্তিকে ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৯০-৯৫ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই ইবোলা ভাইরাস সাধারণত রক্ত, বীর্য এবং বমির মতো শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি প্রায়শই প্রাণঘাতী হয়ে থাকে ।
১১ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই মধ্য আফ্রিকান দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ৫টিতে এই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান সীমান্ত সংলগ্ন ইতুরি প্রদেশে অবস্থিত।
স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আক্রান্ত এলাকাগুলো ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং কেউ কেউ গত কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
আফ্রিকা হেলথ সামিটে ড. কাসেয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ভাইরাসটির বিস্তার রোধে প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান । তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি আমরা এই প্রাদুর্ভাব রুখতে না পারি, তবে এটি বিশ্বের নথিবদ্ধ ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সূত্র- ডয়েচে ভেলে




