ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল রানঅফে, প্রথম দফায় এগিয়ে ফ্লাভিও

ভোট দেওয়ার পর বিজয় চিহ্ন দেখাচ্ছেন ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। ছবি: রয়টার্স
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় জয় পেয়েছেন ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে সরাসরি প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট তিনি পাননি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোটে বা রানঅফে বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার সঙ্গে লড়বেন তিনি।
দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্টের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ০৩ শতাংশ ভোট। লুলা পেয়েছেন ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে সামান্য এগিয়ে ছিলেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। তাই ফ্লাভিওর এই ফল অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে।
ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। গত নির্বাচনে হেরে অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টার পরিকল্পনার দায়ে জাইর বলসোনারো ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি বড় ছেলে ফ্লাভিওকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করেন। জাইরের স্ত্রী মিশেলও রবিবার সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।
ফ্লাভিও নির্বাচিত হলে তার বাবা এবং ৮ জানুয়ারি ২০২৩ সরকারি ভবনে হামলায় জড়িত সমর্থকদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি দক্ষিণাঞ্চল, ধনী ভোটার ও কট্টর খ্রিষ্টানদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়।
অন্যদিকে লুলার সমর্থন বেশি দেশের দরিদ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। নিম্নআয়ের মানুষ, ক্যাথলিক ও নারীদের মধ্যেও তিনি জনপ্রিয়। তিনি চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি জাইর বলসোনারোকে দুই শতাংশের কম ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন।
প্রথম দফার ফলকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেছেন লুলা। তবে তিনি বলেছেন, ‘খেলা এখন শুরু হচ্ছে। আমরা অতিরিক্ত সময়ে আছি। অতিরিক্ত সময়েই আমরা ব্রাজিলের মানুষের সমর্থন জয় করব।’
ফ্লাভিও বলেছেন, তিন সপ্তাহ পর দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি জয়ী হবেন বলে আত্মবিশ্বাসী।
ফ্লাভিওর লিবারেল পার্টি প্রথম দফার ফলাফলে গভর্নর, সিনেটর ও ফেডারেল ডেপুটি নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। ফলে কংগ্রেসে দলটির প্রভাব বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারে সার্বভৌমত্ব, অপরাধ, অর্থনীতি ও দুর্নীতি বড় ইস্যু ছিল। ফ্লাভিও ব্রাজিলের বড় দুই অপরাধী চক্রকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পক্ষে। তিনি এল সালভাদরের আদলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
অর্থনীতিতে তিনি সরকারি ব্যয় কমানো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস ও সরকারি ঋণের সীমা নির্ধারণের কথা বলেছেন। লুলা তার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য কমানোর উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফ্লাভিও জয়ী হলে ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন মাদক পাচারবিরোধী জোটে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারে। তবে চীনের সঙ্গে ‘অর্থনৈতিকভাবে বাস্তববাদী’ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
ব্রাজিলের সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্টের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র : বিবিসি






