হতাশার মাঝেও আছে এক টুকরো আশা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাস্তবতা শুধুই হতাশার বার্তা দেয়। তারপরও অনেক না পাওয়ার মাঝেও কোথাও টিম টিম করে জ্বলে আশার প্রদীপ। আসছে ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কেমন করবে, সত্যিই কি আশা আছে? প্রশ্নের উত্তরগুলো খুঁজতে গিয়ে আশার প্রদীপের খোঁজ মিলেছে যৎসামান্য।
২৯০ জনের বিশাল বহর নিয়ে জাপানের নাগোয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ২২টি ডিসিপ্লিনে থাকবে প্রতিনিধিত্ব। নেতৃত্বের পালাবদল নিয়ে ব্যস্ত থাকা ফেডারেশন কর্তারা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেননি। প্রস্তুতি, বাস্তবতা ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় এবারও তাই বড় কোনো আশা নেই। তারপরও কেউ কেউ দিচ্ছেন ভালো কিছু প্রতিশ্রুতি।
সর্বশেষ হাংজুতে ১৯তম এশিয়ান গেমসে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটে জুটেছিল ব্রোঞ্জ। এ ছাড়া বক্সিংয়ে পদকের খুব কাছে পৌঁছেও পারেননি সেলিম হোসেন। কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের সুদাই হারাদার কাছে হেরে ১৯৮৬ সিউল গেমসে মোশারফ হোসেনের কীর্তি (একক ইভেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র পদকজয়ী) ছোঁয়া হয়নি সেলিমের।
তিন বছর আগের সেই আক্ষেপ ঘোচাতে কঠোর পরিশ্রম করছেন সেনাবাহিনীর সেলিম। আগামীর সময়ের কাছে সে কথাই বলেছেন হাংজু এশিয়ান গেমসের পর মাত্র একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এই বক্সার, ‘সেবার গেমস থেকে ফিরেই শান্তিরক্ষী মিশনে কঙ্গোতে চলে যাই এক বছরের জন্য। ২০২৫ সালের শুরুতে ভুটানে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিই। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পেয়েছি বলেই আরেকটি এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ পাচ্ছি। ফিকশ্চার, পুল যদি পক্ষে থাকে চেষ্টা করব গতবারের আক্ষেপ ঘোচাতে, দেশকে কিছু দিতে।’ সেবার ৫৭ কেজিতে খেলেছিলেন সেলিম, এবার খেলছেন ৬০ কেজিতে। তার সঙ্গী হয়ে যাচ্ছেন তরুণ বক্সার উৎসব আহমেদ। তিনিও ভালো একটা ফিকশ্চারের আশায় আছেন, ‘আমরা দুই কোচের অধীনে সাড়ে তিন মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি ফিকশ্চারে সহজ প্রতিপক্ষ পেয়ে যাই, তবে যে কোনো কিছুই সম্ভব।’
আর্চারি নিয়ে সবসময়ই একটা আশা থাকে। এবারও আশার কথা শোনাচ্ছেন আর্চারি দলের জার্মান হেড কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ— ‘আলাদা করে কারও নাম বলব না। তবে কম্পাউন্ডের পাঁচ ইভেন্টেই আমাদের সুযোগ থাকবে। রিকার্ভে ছেলেরা ভালো ছন্দে আছে। আমরা পোডিয়ামে চোখ রেখে জাপান যাব।’
কমনওয়েলথ গেমসে নিয়মিত পদক পেলেও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শুটাররা কখনোই জ্বলে উঠতে পারেননি। এবারও তাদের ঘিরে পদকের স্বপ্ন নেই। তার ওপর শুটিং ফেডারেশনের বিগত কমিটি ভালো প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে পারেনি।
তবে সবকিছু পক্ষে থাকলে চমকে দিতে পারেন জিমন্যাস্ট রাজিব চাকমা। বাছাই উতরে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এশিয়াডের জিমন্যাস্টিকসে সুযোগ পেয়েছেন রাজিব। কমনওয়েলথ গেমসে অল্পের জন্য পদক হারানো এই তরুণ আছেন ভালো ছন্দে, এমনটাই দাবি জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের।
লং জাম্পার স্বপ্না খাতুনকে নিয়ে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছেন কোচ আল আমীন, ‘গত মে মাসে জুঁই আপার (ফৌজিয়া হুদা জুঁই) গড়া ৬.০৭ মিটারের রেকর্ড ভেঙে স্বপ্না গড়েছিল নতুন ৬.২৫ মিটারের রেকর্ড। এই সেরাটা যদি এশিয়াডে ও লাফাতে পারে, তবে আমি নিশ্চিত ও সেরা ১২-এর মধ্যে থাকতে পারবে।’
নারী ফুটবলে দুই কোরিয়া ও মিয়ানমারের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়ায় পিটার বাটলারের শিষ্যদের নিয়ে বড় স্বপ্ন নেই। পুরুষ হকি দলের জার্মান কোচ পিটার বাটলার ষষ্ঠ স্থানে পাখির চোখ করে প্রস্তুতি মিশনে চীনে গেছেন। আর নারীরা অভিষেক রাঙাতে চাইবে প্রতিপক্ষকে চমকে দিয়ে।
একটা সময় কাবাডিতে পদক এলেও এখন তা অলীক কল্পনা। পদকের হিসাব মেলাতে এবারও ক্রিকেটেই যত নির্ভরতা। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে ছেলেদের দল জিতেছিল সোনা আর মেয়েরা রুপা। এরপর ২০১৪ ও ২০২২ সালের গেমসে ছেলেদের দল জেতে ব্রোঞ্জ। মেয়েরা ২০১৪ সালে রুপা ও ২০২২-এ জিতেছে ব্রোঞ্জ। এবারও বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের জন্য গড়া হয়েছে শক্তিশালী দল।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ক্রীড়াবিদরা। পদকের হাসি কজন হাসতে পারেন, তা সময়ই বলে দেবে।





