ক্রীড়া ভাতা থমকে যাওয়া নিয়ে সরকার যা বলছে

দ্বিতীয় প্রস্থে ১৭১জনকে আনা হয় ভাতার আওতায়
বিভিন্ন জাতীয় দলের অ্যাথলেটদের বকেয়া ক্রীড়া ভাতা প্রদান এবং ২০তম এশিয়ান গেমসসহ আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণের আর্থিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা করে ভাতা দিতে ৬০ কোটি টাকা এবং নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জন্য ১৪০ কোটি টাকা— সর্বমোট ২০০ কোটি টাকা 'নন-এডিপি স্কিম' খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সরাসরি বাজেটের বদলে নন-এডিপি স্কিম হওয়ায় প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে ভাতা আদায়ে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত এক বছরের কর্মসূচি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গত ৩১ আগস্ট অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে অনুমোদন মিললেই খেলোয়াড়রা গত জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ নিয়মিত ভাতা পাবেন।
অন্যদিকে, জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠাতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ১০ কোটি টাকা অগ্রিমসহ ২৩.২৫ কোটি টাকার বাজেট চেয়েছিল। বাজেটে এই খাতটি ডাবল স্টার ভুক্ত হওয়ায় এবং বিধি মোতাবেক সরাসরি অগ্রিম উত্তোলনের সুযোগ না থাকায় বিস্তারিত তথ্য ও জি.ও.-র জন্য অপেক্ষা করতে হয়। পরবর্তীতে নথিপত্রসহ গত ২৪ আগস্ট প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দ্রুত সরবরাহের জন্য বিওএ-কে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, এশিয়ান বিচ গেমসের বাজেট অনুমোদনও গত ২৩ আগস্ট অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদিত হলেই অর্থ বিওএ-র অনুকূলে ছাড় করা হবে। পাশাপাশি একটি ইতিবাচক খবর হিসেবে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ‘২৩তম কমনওয়েলথ গেমস স্কটল্যান্ড’-এর ভ্রমণ ব্যয় বাবদ ১.৮৪ কোটি টাকার অর্থ ছাড়ের সম্মতি গত ৩ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ নিজ কার্যালয়ে ১২৯জন জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা বর্তমান ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার পাশাপাশি ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর ১৯ এপ্রিল আরও ১৭১জনকে আনা হয় এর আওতায়। প্রথম দু'মাস ঠিকই এক লাখ টাকা করে ভাতা পেয়েছেন ৩০০ ক্রীড়াবিদ। তবে শেষ দুই মাসে সেই ভাতা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক ক্রীড়াবিদ। সরকারের ক্রীড়া ভাতার এ উদ্যোগের পর অনেক ক্রীড়াবিদ অন্য জীবিকা ছেড়ে খেলা মনযোগী হয়েছিল। ক্রীড়া ভাতা না মেলায় তাদের বিপদ বেড়েছে।
বিওএ'র মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা সরকারের কাছে বাজেট চেয়ে এখনও না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহলে। যা কানে আসার পর তড়িঘড়ি নিজেদের অবস্থান জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন ব্যক্তিগত সফরে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।





