ক্রীড়া পরিষদের পরিচালকের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বিরুদ্ধে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নিজ কক্ষে এক ব্যক্তিকে শারীরিক হেনস্থা, সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সাব্বির (মাসুম) বুধবার রাতে পল্টন মডেল থানায় অভিযোগপত্র দায়ের করেন। অভিযোগপত্রের ক্রমিক নম্বর- ৩২২৯/২৬। থানার পক্ষ থেকে সাব ইন্সপেক্টর নরোত্তমকে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী গোলাম সাব্বির মাসুম লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, 'মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের খেলার বরাদ্দের জন্য ইতিপূর্বে কয়েকবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বরাবর আবেদন করি। বারংবার আবেদন করার পরেও বরাদ্দ দেয়নি। আমি ব্যাগের মধ্যে নগদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সাথে নিয়ে খেলার সামগ্রী ক্রয় করার পূর্বে ৭ অক্টোবর আনুমানিক ৪ ঘটিকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সপ্তম তলায় বিবাদীর (জাহেদ পারভেজ চৌধুরী) অফিসে গিয়ে খেলার বরাদ্দের বিষয়ে কথা বার্তা বলতে থাকি। এক পর্যায়ে বিবাদী আমার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। আমি বিবাদীকে শান্ত হতে বললে, বিবাদী আমার ওপরে ক্ষিপ্ত হয়ে অজ্ঞাতনামা ২/৩জনকে ডেকে এনে আমাকে এলোপাথারিভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম করে।'
গোলাম সাব্বির মাসুম আরও জানান, 'এক পর্যায়ে বিবাদী তার অফিসে থাকা কাঠের স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে আমার ডান পায়ে স্বজোরে আঘাত করেন এবং আমার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন (আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা মূল্যের) এবং ক্রীড়া সামগ্রি ক্রয়ের জন্য আমার সঙ্গে থাকা ব্যাগে নগদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। বিবাদীরা আমাকে অফিসে কক্ষে আটকে রেখে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে তাদের শিখানো জবানবন্দি জোরপূর্বক মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করলে আমি বিবাদীকে ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে পালিয়ে আসি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা গ্রহন শেষে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়।”
এ ব্যাপারে মাসুম আরও বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না কী কারণে উনি (জাহেদ পারভেজ) আমার ওপর এতটা ক্ষিপ্ত হলেন এবং মারধর করলেন। তিনি বারবার বলেছেন, আমি নাকী তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছি, যার কোনো প্রমাণ নেই। তিনি এবং তার লোকজন আমাকে মারাত্মকভাবে জখম করেছেন এবং এক পর্যায়ে স্ত্রীকে ফোন করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির জন্যও চাপ দিয়েছেন। আমি ঝুঁকি নিয়ে এক পর্যায়ে আটক থাকা অবস্থা থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যাই।’
জাহেদ পারভেজ চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, ‘এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কেউ তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেনি। যেহেতু তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, আমিও আইনিভাবে এর মোকাবেলা করব।’
জানা গেছে, মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ থাকায় গত দেড় বছর মাসুম ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। যে কারণে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তাকে নিয়মিতই যাতায়াত করতে হয়।



